২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ দুপুর ১:৫২

কাউন্সিলর নুরুল ইসলামের প্রার্থীতা বাতিল এলাকায় আনন্দ মিছিল

বার্তা ডেক্স:
  • আপডেট সময়ঃ বৃহস্পতিবার, মে ১৮, ২০২৩,
  • 247 পঠিত

আগামী ১২ জুন অনুষ্ঠিত হবে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ইতিমধ্যে গত ১৬ মে মেয়র ও কাউন্সিলরসহ মোট ১৯৮ জন প্রার্থী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়ন ফরম জমা দেয়া ও ১৮ মে মনোনয়ন যাচাই বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থাণীয় সরকারের এই নির্বাচনকে ঘিরে বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের প্রার্থী ও নগর উন্নয়নের আগ্রহের কমতি থাকে না। তেমনি বরিশাল সিটি করপোরেশন এর ২৭ নং ওয়ার্ডে এবারে মোট ০৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থী অংশ নেয়ার কথা থাকলেও তার মধ্যে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের যাচাই বাছাই প্রক্রিয়ায় বর্তমান কাউন্সিলর নুরুল ইসলামসহ দুই জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। আর এই প্রার্থীতা বাতিল হওয়ার খবরে স্থানীয় শতাধিক আমজনতা ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল করেছে বলেও জানা গেছে।

২৭ নং ওয়ার্ড ঘুরে বর্তমান কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম এর তেমন কোন উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার কথা জানাতে পারেনি স্থাণীয়রা। তবে সাধারণ ভোটারদের থেকে নিজ ভাগ্য উন্নয়নে ব্যাস্ত ছিলেন এ জনপ্রতিনিধি এমনটাই মন্তব্য করেন ভোটাররা। আর কাউন্সিলর নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভোটারদের এমন হতাশাজনক মন্তব্য’র বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে উঠে আসে নানা অপকর্মের ফিরিস্তি। আর এ নিয়ে ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ রয়েছে এ প্রতিবেদক এর হাতে। ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী দিয়ে বিভিন্ন সময়ে জোর পূর্বক অণ্যর জমি দখল, কৃষি জমি ভরাট করে পানি নিস্কাশনে বাধা সৃষ্টি, দোকান লুট করে মালামাল ট্রাক ভরে ছিনিয়ে নেয়া, স্থাণীয়দের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে সরকারী রাস্তা নির্মান করা, প্রকৃত কৃষকদের সরকারী বরাদ্দের সার থেকে বঞ্চিত করা, বয়স্কভাতা, টিসিবি কার্ড, ওএমএস এর চাল আটা বিতরণে অনিয়মসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত তিনি। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, নগরের ২৮ নং ওয়ার্ডের হরিপাশা গাজীবাড়ির উপর দিয়ে হাউজিং এর জন্য জোরপূর্বক ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাস্তা নির্মান করেন। যাতে ওই এলাকার একাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হন, ওই এলাকার আল্লার বান্দার ছেলের পুকুরসহ এলাকার একাধিক কৃষিজমি ভরাট করায় বর্তমানে কৃষকদের কৃষি কাজে পড়তে হচ্ছে পানি সংকটে। বিগত বেশ কিছু বছর পূর্বে নগরের চাঁদমারী এলাকা থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার নেতৃত্বে ৮/১০ টি দোকান লুট করে নিয়ে যান কুদঘাটা এলাকায় পরে লুটের মালামাল তিনি তার ক্যাডার বাহিনীর মধ্যে বন্টন করে দেন। নগরের নবগ্রাম রোডের মুনসুর কোয়ার্টারের পুরাতন পুকুর বালু দিয়ে ভরাট করে আলোচনায় আসেন কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম। শুধু তাই নয় ডেফুলিয়া কুদঘাটার বাসিন্দা কাজল খানের ছেলে আক্কেল আলী খানসহ একাধিক ব্যাক্তি জমির জোর পূর্বক দখল করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও ওই এলাকার রুস্তম আলীর ছেলে কালাম হাওলাদারের পৈত্তিক জমি থেকে তাকে উৎখাত করেন নুরুল ইসলাম ও তার ক্যাডার বাহিনী। স্থাণীয় ষাটোর্ধ্ব এক ব্যাক্তির সাথে আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, বর্তমান কাউন্সিলরের কত অপকর্মের ফিরিস্তি শুনবেন। কোন অপকর্ম নেই যে তিনি করেননি। স্থাণীয় কৃষকদের মাঝে বরাদ্দকৃত সার তিনি নিজের পছন্দের লোক দুলাল গাজী, মনির হাওলাদার, স্বপন রায়, সুনীল, পরিমল, বাবুসহ আরো ২০/২৫ জনের মাঝে বিতরণ করেন। সর্বশেষ তার ক্যাডার বাহিনীর সদস্য রুস্তম আলী ধলুকে ডাকাতির মামলায় গত ২৭ এপ্রিল ২য় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত এর বিচারক ০৭ বছর কারাদন্ড প্রদান করেন। বর্তমানে ওই মামলায় ধলু কারাগারে রয়েছেন। এছাড়াও আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনী হলফনামায় দেয়া সম্পত্তির বিবরণের সাথে বাস্তব সম্পত্তির আকাশ সমান ফারাক দেখা যায়,। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন বরিশাল সিটি করপোরশেন এলাকায় তার ৫ তলা বিশিষ্ট দুটি বাড়ি, একটি দ্বিতল বিশিষ্ট ও একটি ৯তলা ভবন নির্মাণাধীন। তিনটি ভবন থেকে বাসা ভাড়া বাবদ বছরে আয় দেখিয়েছেন মাত্র দুই লাখ ৩১ হাজার ৯৮১ টাকা। এই হিসেবে প্রতি মাসের তিনটি ভবন থেকে বাসা ভাড়া বাবদ আসে মাত্র ১৯ হাজার ৩৩১ টাকা। তবে খোঁজ নিয়ে জানাযায়, নগরের ৩০টি ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে যারা ধর্ণাঢ্য আছেন তাদের মধ্যে অন্যতম নুরুল ইসলাম। জমি ক্রয়-বিক্রয়ের পাশাপাশি ঠিকাদারি ও বাড়ি ভাড়া বাবদ বছরে কোটি টাকার ওপরে আয় এ কাউন্সিলরের। নগরীর কালুশাহ সড়ক এলাকার নিরিবিলি আবাসনে নুরুল ইসলামের ৫ তলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি রয়েছে। ওই ভবনের প্রতি ফ্লোরে চার ইউনিট। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ওই ভবনের প্রতি ইউনিটের ভাড়া ৯ হাজার টাকার ওপরে। সেই হিসেবে নুরুল ইসলামের একটি ভবন থেকে বছরে আয় ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া অপর ৫ তলা ভবন থেকেও প্রতি বছর ২০ লাখ টাকার ওপরে ভাড়া আসে এ কাউন্সিলররের। নগরীতে নামে-বেনামে একাধিক স্টল রয়েছে তার। সব মিলিয়ে বছরে ৫০ লাখ টাকার ওপরে কেবল ভাড়া বাবদই আয় হয় কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল ইসলাম হাওলাদারের। এ ছাড়া ঠিকাদারি ও জমি কেনাবেচার ব্যবসা তো আছেই। অথচ হলফনামায় ‘গরীবি’ তথ্য দিয়েছেন এ কাউন্সিলর। এ বিষয়টি নিয়ে কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গতকাল নুরুল ইসলাম’র প্রার্থীতা বাতিল হওয়ার খবরে ২৭ নংও ওয়ার্ডের রুইয়ার পোল এলাকায় আনন্দ মিছিল করে সাধারণ ভোটাররা।

সংবাদটি শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো সংবাদ...
© All rights reserved © ২০২৩ স্মার্ট বরিশাল
EngineerBD-Jowfhowo