২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ দুপুর ২:৫৩

স্বল্প সময়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে খোকন সেরনিয়াবাত

স্মার্ট বরিশাল নিউজ ডেক্স:-
  • আপডেট সময়ঃ শনিবার, জুন ১০, ২০২৩,
  • 150 পঠিত

স্মার্ট বরিশাল নিউজঃ

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে (২০২৩) মেয়র পদে কোন প্রার্থী জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন? কে হতে যাচ্ছেন আগামীর বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র? এ নিয়ে ভোটের মাঠে নানা আলোচনায় আলোচিত হচ্ছে। নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডজুড়েই মেয়র পদ প্রার্থীদের বৈশিষ্ট্য নিয়ে চলছে সর্বত্র আলোচনা।

নাগরিকরা বলছেন, স্বল্প সময়েই নগরবাসীর মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন বঙ্গবন্ধু’র ভাগ্নে আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত। ভোটযুদ্ধে তিনি ভদ্র, অমায়িক, সৎ ও নীতিবান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। বিশেষ করে তাঁর সহধর্মীনি লুনা আব্দুল্লাহ’র গণসংযোগে নগরজুড়ে নারী ভোটারদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। তিনি তাঁর স্বামীর পক্ষে প্রচারণায় নারী ভোটারদের মন জয় করতে সক্ষম হন। অর্থাৎ লুনা আব্দুল্লাহ’র প্রচারণার কারিশমায় নৌকার প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাতকে অনেক এগিয়ে দিয়েছেন। আর সিটিতে নারী ভোটারদের সংখ্যাও বেশি। নারীদের পাশাপাশি লুনা আব্দুল্লাহ নতুন ভোটারদেরও মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। সাধারন জনগণের ভাষ্য, মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে ভোটযুদ্ধে জনপ্রিয়তায় সবার শীর্ষে রয়েছেন খোকন সেরনিয়াবাত।

বিগত দিনে ভোটের হিসাবের পরিসংখ্যান বলছে- বরিশাল নগরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুটি বৃহৎ ভোট ব্যাংক রয়েছে। সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্য দলগুলো এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কোন ভোট ব্যাংক নেই। বলা হচ্ছে-বিএনপি এই সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় তাদের কর্মী-সমর্থকরা ভোটে বেশ অনাগ্রহী। তবুও বিএনপি সমর্থিতদের একটি অংশ ভোট কেন্দ্রে যাবেন এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবেন। এক্ষেত্রে বিএনপির ভোটে হাতপাখা বেশি ভাগ বসানোর কথা চাউর ঘটালেও বাস্তবতা ভিন্ন। কারণ বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা কখনোই চরমোনাই পীর সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দিবেন না।

এরমধ্যে জাতীয় এবং স্থানীয় রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। বিএনপির হাইকমাণ্ডও চরমোনাইকে পছন্দ করে না। আর বরিশালের প্রেক্ষাপটে রয়েছে আরেক ভিন্ন কারণ। বেশ কয়েক বছর আগে বরিশাল বিএনপির প্রভাবশীল নেতা দলের যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড. মজিবুর রহমান সরোয়ারকে চরমোনাই এলাকায় আটকে রেখে হত্যা চেষ্টা চালিয়েছিল চরমোনাই পীরের অনুসারীরা। তৎকালীন সময়ে চরমোনাই পীরের মুজাহিদ বাহিনীর হামলায় সাবেক সাংসদ সরোয়ারের দাতও ভেঙ্গে ফেলে। এক্ষোভ রয়েছে বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মাঝে। এ হিসেবে হাতপাখা বিএনপির ভোটে তেমন ভাগ বসাতে পারবে না বলে মনে করেন খোদ বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। অপরদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর আশায় বসে আছে বিএনপির ভোটে ভাগ বসাতে কিন্তু সে আশাও গুড়েবালি বলে মনে করছেন বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র বলছে, এবারে বরিশাল সিটি নির্বাচনের চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ক্লীন ইমেজের খোকন সেরনিয়াবাতকে পছন্দ করেন বিএনপি’র কর্মী-সমর্থকরাও। এরফলে চরমোনাই, লাঙ্গল যতোটা না বিএনপির ভোটে ভাগ বসাতে পারবে তার চেয়ে নৌকার প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাত বিএনপির ভোটে ভাগ বসাতে পারেন বলে মন্তব্য করেন বিএনপির কর্মীরা। কারণ একটাই ব্যক্তি হিসেবে খোকন সেরনিয়াবাত অনেক ভালো মনের মানুষ। তাঁর কোন লোভ লালসা নেই। তিনি সৎ ও ভদ্র। ক্লীন ইমেজের ব্যক্তি হিসেবে জনমনে আখ্যায়িত হয়েছেন খোকন সেরনিয়াবাত। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র আহসান হাবীব কামালের পুত্র কামরুল আহসান রুপনও বিএনপি সমর্থিতদের ভোটে ভাগ বসাবেন। তবে-তা আশানুরূপ নয় বলে জানিয়েছেন খোদ বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী।
বিভিন্ন অনুসন্ধানী সূত্র বলছে, এবারে আওয়ামী লীগের জন্য সবচেয়ে বড় চমক একজন ভদ্র, অমায়িক, আদর্শবান ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এটাই এখানকার আ’লীগের বড় প্লাজ পয়েন্ট। এছাড়া বিএনপি ভোটের মাঠের বাইরে রয়েছে। আ’লীগের প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাত এবং তাঁর সহধর্মীনি লুনা আব্দুল্লাহও স্বল্প সময়েই নগরবাসীর মন কাড়তে সক্ষম হন।
আ’লীগের প্লাজ পয়েন্ট হিসেবে ভোটের মাঠে ১৪ দলও ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে।

অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপসের তেমন ভোট ব্যাংক নেই। এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম এর অবস্থা আরো খারাপ। চরমোনাই পীরের হাতপাখার ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করলেই সিটিতে তাদের কোন ভোট ব্যাংক নেই। হাতপাখার যারা গলাফাটিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে এদের অধিকাংশই বহিরাগত।

সবমিলিয়ে, এবারে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটযুদ্ধে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে নৌকার প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত)। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামীর বরিশাল সিটি মেয়র হতে যাচ্ছেন খোকন সেরনিয়াবাত।

প্রসঙ্গত : ২০০৩ সালের বরিশাল সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট এনায়েত পীরকে ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন এ্যাড. মজিবুর রহমান সরোয়ার। ওই নির্বাচনে বিএনপির আরও দুই প্রার্থী অংশ নেওয়ায় তাদের সম্মিলিত ভোটের হিসাবে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল অর্ধেকেরও কম ভোট। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এ্যাড. শওকত হোসেন হিরণ ৫৮৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ছিলেন তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। তৎকালীন নির্বাচনেও বিএনপির আরও দুই প্রার্থী মিলিয়ে পরাজিত প্রার্থীর সমান সংখ্যক ভোট পেয়েছিলেন। তিন প্রার্থী মিলে হিরণের দ্বিগুণ ভোট পেয়েছিলেন। ২০১৩ সালের নির্বাচনে প্রায় ১৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপির একক প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিরণ। অবশ্য ২০১৩ সালের নির্বাচন নিয়ে হিরণ সমর্থকদের ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। অভিযোগ উঠে-আ’লীগের একটি অংশের বিরোধিতার কারণে হিরণকে পরাজিত করা হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে স্থানীয় রাজনীতিতে বিএনপির প্রভাবশালী প্রার্থীকে বিপুল ভোটে হারিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হন। যদিও ওই নির্বাচনটা প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থীরা বর্জন করেছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো সংবাদ...
© All rights reserved © ২০২৩ স্মার্ট বরিশাল
EngineerBD-Jowfhowo