১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ রাত ১০:০৩

তবে কি বুড়িগঙ্গা’র পথে কীর্তণখোলা…?

আহমেদ রুবাইয়াত ইফতেখার বাবু
  • আপডেট সময়ঃ বৃহস্পতিবার, জুন ১৫, ২০২৩,
  • 201 পঠিত

স্মার্ট বরিশাল ডটকম 

বাংলাদেশের মহামূল্যবান সম্পদের একটা কির্তনখোলা নদী। বরিশাল, বাকেরগঞ্জ, বাঙ্গালা, বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ সভ্যতা এই কীর্তণখোলাকেই কেন্দ্র করে আবর্তিত। ঐতিহাসিক কাল থেকেই বরিশালের জন-জীবন ককীর্তণখোলা নদী কেন্দ্রিক । বরিশালের কবিতা , গানে মিশে আছে কীর্তণখোলা। শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি-কীর্তণখোলা ছাড়া কল্পনা করতে পারি না। কীর্তণখোলা বিলুপ্ত মানে বরিশালবাসীর অপমৃত্যু। এই কথা মেনে নিতেই হবে। কীর্তনখোলা বরিশালবাসীর জীবনেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। কীর্তণখোলা নদীর মৃত্যু হলে বরিশাল মহানগর বসবাসের উপযোগিতা হারাবে, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। এখানে জীবন থমকে দাঁড়াবে। বেড়ে ওঠা রুদ্ধ হবে। গতিপ্রকৃতি বদলে যাবে- যদি না কীর্তণখোলাকে রক্ষা করি।

নদী হত্যা মানুষ হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ। অথচ সেই নদীকেই আমরা হত্যা করে চলেছি প্রতিনিয়ত, প্রতিদিন। দেশে নদী দখলদারদের চিহ্নিত করেছে নদী কমিশন। প্রায় ৪৯ হাজার ১৬২ জন দুর্বত্ত চিহ্নিত হয়েছে নদী দখলদার হিসেবে। বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর জন্য এটা চরম নিন্দনীয়। কীর্তণখোলা নদীও সেইসব দুবৃত্তদের কব্জায়। এপাড় ওপাড় দখলদারদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে। তাদের কারণেই কীর্তণখোলা আজ বুড়িগঙ্গার পথে হাঁটছে। আমাদের কুকীর্তির কারণে মনে হয় বুড়িগঙ্গা পথ দেখাচ্ছে কীর্তণখোলাকে। কীর্তণখোলার সেই স্রোত, সেই মায়াবী দৃশ্য, সেই কুলকুল ধ্বনি, সেই তুফান তরঙ্গ, সেই ভাটিয়ালি সুর আর নেই। অপরিকল্পিত নগরায়ন, শহরায়নে নদীর বেহাল দশা। নদীর প্রাণ হলো খাল। কীর্তণখোলার উভয় তীরের অগুনতি খালের অনেকটাই বিলুপ্তপ্রায়। স্লুইজগেট, কালভার্ট, বাঁধ আর শিরিশ গাছ বা রেইনট্রি খালগুলোকে প্রাণে মেরে ফেলছে। বরিশাল শহরের ৪৬টি খাল নগরীর গর্ভে বিলীন।

ভূরাজনৈতিক মারপ্যাঁচের ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প ও ৫৭টি নদীর উজানের বাঁধের প্রতিক্রিয়ায় ধেয়ে আসা পলি-বালিতে নদীর তলদেশ ভরে গেছে। নাব্যতা সঙ্কটে ভুগছে নদ-নদী। কীর্তণখোলাও একই মুসিবতের শিকার। যার ফলে চলছে ভাঙন, কমে গেছে গভীরতা, চর পড়ে হ্রাস পেয়েছে আয়তন। নদীর পূর্ব পাড়ের ইটের ভাটায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কীর্তণখোলা। শহরের আবর্জনা, ময়লা, বর্জ্য নদীতে ফেলে নদীকে বিষাক্ত করে তোলা হয়েছে। প্লাস্টিক, পলিথিন নদীকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। রূপাতলি-কর্ণকাঠি শহিদ আবদুর রব সেরানিয়াবাত সেতু হওয়ার পর কীর্তণখোলার বারোটা বেজেছে। সেতুটি নির্মাণের ফলে নদীর স্রোত রুদ্ধ হয়ে যায়, স্বাভাবিক গতিপথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এর দুই পাশে চর পড়ে নদীকে সংকীর্ণ করে দিচ্ছে। সেতুর দক্ষিণ পাশে নির্মিত হয়েছে মেরিন একাডেমি। সেটাও নদীর চরে। স্বাভাবিক কারণেই নদী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে এখনও সম্ভব লঞ্চঘাট থেকে কালিজিরা পর্যন্ত কীর্তণখোলার তীর ঘেষে পার্ক ও পর্যটনস্পট সৃষ্টি করা।
দখলদারদের উচ্ছেদ, বর্জ্য-ময়লা নদীতে না ফেলা, নদীর পাশে যত্রতত্র শিল্প কারখানা স্থাপন না করা সময়ের অপরিহার্য দাবি। প্লাস্টিক পলিথিন বন্ধ করা। পাশাপাশি খাল-নালাকে সচল করে দেওয়া, খনন করা। সর্বোপরি সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে, কীর্তণখোলা তার অতীত রূপ, ঐশ্বর্য, প্রমত্ততা ফিরে পাক।

নদী তীর শান্তির নীড়। নির্মল বায়ু, প্রাণের প্রবাহ, সুন্দর প্রকৃতি, পরিবেশিক ভারসাম্য নদীরই দান। হতাশা, গ্লানি, দুঃখ, মনোবেদনা লাঘবে মানুষ নদীর তীরে ঘুরে আসে। নদী প্রেমিকরা নদীর কাছেই বারবার ফিরে যায় জীবনের দোলা জাগাতে। নদী তার ছায়ায় ডাকছে অবিরত। নদী সুখ, শান্তি, নিরাপদ, নিরাপত্তার আশ্রয়স্থল।
নদীমাতৃক বাংলাদেশে আমাদের অনেকের কাছেই নদী ‘মূল্যহীন’। ‘ তবে আমাদের বোঝা উচিত,নদী শুধু দিয়েই যাচ্ছে আমাদের, বিনিময়ে কিছুই দাবি করে না।

আহমেদ রুবাইয়াত ইফতেখার বাবু
সাবেক সহ সম্পাদক
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো সংবাদ...
© All rights reserved © ২০২৩ স্মার্ট বরিশাল
EngineerBD-Jowfhowo