২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ রাত ১:৪৮

বরিশালের ঐতিহ্য যেনো বাক্সে বন্দী ব্যানার ও পোস্টারে

বিশেষ প্রতিবেদক:-
  • আপডেট সময়ঃ রবিবার, জুলাই ১৬, ২০২৩,
  • 157 পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদক

আবারও ঐতিহ্যের বরিশাল ঢেকে গেছে ব্যাণার পোস্টার ফেস্টুনে। ইতিহাস ঐতিহ্যের সাক্ষী বরিশালের প্রথম চেয়ারম্যান প্যারীলাল রায় এর গাড়িটি, জিলা স্কুলের গেট, সৌন্দর্যের প্রতীক এরোপ্লেন এবং নগর ভবনের বিপরীতে বিভাগীয় জাদুঘরের গেটও পুনরায় ঢাকা পরেছে রাজনৈতিক বিভিন্ন প্রচারণা পোস্টার ও ব্যাণারে।
এই মুহূর্তে রাজা বাহাদুর সড়ক মোড়ের ব্যানারগুলো তারই প্রমাণ বহন করে দাঁড়িয়ে আছে এবং ঢেকে আছে বরিশাল শহরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক চমৎকার একটি স্থাপনা।
বরিশাল জিলা স্কুলের সামনে মসজিদ সংলগ্ন এই স্থাপনাটি শহরের মিউনিসিপ্যালিটির প্রথম চেয়ারম্যান প্যারীলাল রায় এর ব্যবহার করা গাড়ি। যা প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হীরন এভাবে সংরক্ষণ করে রাখেন। আর তাঁর সেই সংরক্ষণকে উপহাস্য করে তুলেছে তারই দলীয় লোকদের বিভিন্ন পোস্টার ও ব্যানার।
প্যারীলাল রায় ছিলেন বরিশাল মিউনিসিপ্যালিটির প্রথম চেয়ারম্যান। যার এই স্থাপনা মনে করিয়ে দেয় বরিশালের আদি ইতিহাস। হেঁটে আসতে হয় ইতিহাসের পাতায়।

১৮৭৬ সালে মিউনিসিপ্যালিটি অ্যাক্ট দ্বারা বরিশাল শহরকে মিউনিসিপ্যালিটি হিসাবে ঘোষণা করা হয়। স্থানীয় বুদ্ধিজীবীদের মধ্য থেকে ১ জন চেয়ারম্যান, ১ জন ভাইস চেয়ারম্যান ও ১৫ জন কমিশনার দ্বারা মিউনিসিপ্যালিটি গঠন করা হয়। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, কমিশনারদের মধ্যে ১০ জন নির্বাচিত, ৪ জন মনোনীত ও ১ জন প্রাক্তন কর্মকর্তা। জনসাধারণের মধ্যে থেকে প্যারীলাল রায়কে করা হয় বরিশাল মিউনিসিপ্যালিটির প্রথম চেয়ারম্যান। সেসময় বরিশাল মিউনিসিপ্যালিটির আয়তন ছিল ৭ বর্গমাইল (১৮.১৩ বর্গ কিলোমিটার। ও জনসংখ্যা ছিল ১২,৫০১ জন।
প্রতিষ্ঠাকালে বরিশাল মিউনিসিপ্যালিটির ওয়ার্ড ছিল ২টি, পাকিস্তান আমলে, বাড়িয়ে ১০টি ওয়ার্ড করা হয় ও শহরের আয়তন হয় ২০ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা তখন প্রায় ১ লাখ।
বাংলাদেশ স্বাধীনের পূর্ব পর্যন্ত এ মিউনিসিপ্যালিটির ১০টি ওয়ার্ডের নির্বাচিত মেম্বারদের ভোটে একজন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতেন। এই ধারাবাহিকতায় দ্বারকানাথ দত্ত, অশ্বিনী কুমার দত্ত প্রমুখ চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে পৌরসভার আয়তন বাড়িয়ে ২৫ বর্গকিলোমিটার করা হয়। এ সময় আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশের বরিশাল পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। এরপর আব্দুর রহমান বিশ্বাস, গোলাম মাওলা প্রমুখ চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৫ সালে বরিশাল পৌরসভাকে প্রথম শ্রেনীর পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তখন এম এ কামাল ছিলেন চেয়ারম্যান।
পরবর্তীতে সিটি কর্পোরেশন স্থাপনকল্পে “বরিশাল সিটি কর্পোরেশন আইন, ২০০১” প্রণীত হয় ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে একটি স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকা প্রতিষ্ঠিত হয়৷ এই আইন ২০০২ সালে সংশোধিত হয়ে “বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (সংশোধন) আইন ২০০২” প্রণীত হয় ও ২৫ জুলাই ২০০২ আনুষ্ঠানিক ভাবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়। ২৫ বর্গকিলোমিটার থেকে বর্ধিত এর আয়তন দাঁড়ায় ৫৮ বর্গকিলোমিটারে।

জিলা স্কুল, সার্কিট হাউস ও বরিশাল ক্লাবকে ঘীরে রাজা বাহাদুর সড়কের চৌরাস্তা মোড়ের জিলা স্কুল মসজিদ সংলগ্ন এই স্থাপনায় বসানো জীপ গাড়িটি প্রশ্ন তোলে- এটি কার গাড়ি? আর এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হেঁটে আসা ইতিহাস বলে দেয় বরিশালের পরিচয়। গর্বিত এই পরিচয় ব্যানার ও পোস্টারে ঢেকে রাখা অবশ্যই একটি লজ্জাজনক কাজ বলে মনে করেন সচেতন নাগরিক কমিটির প্রধান শাহ সাজেদা, বরিশাল সাহিত্য সংসদের সভাপতি ও নগর চিন্তাবিদ কাজী মিজানুর রহমানসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেন, ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ স্থান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ও প্রবেশপথ ব্যানার পোস্টারে ঢেকে দেয়াটাও আইন করে বন্ধ করা উচিত ।

সংবাদটি শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো সংবাদ...
© All rights reserved © ২০২৩ স্মার্ট বরিশাল
EngineerBD-Jowfhowo