১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ রাত ১০:৫৯

প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের অবদান: ৩০ বছর পর বরিশালে উন্নয়নের ছোঁয়া

বিশেষ প্রতিবেদক:-
  • আপডেট সময়ঃ সোমবার, আগস্ট ২১, ২০২৩,
  • 363 পঠিত

(বরিশালের কীর্তনখোলা নদী রক্ষা বাঁধকে ঘীরে পর্যটন সম্ভাবনা তৈরী হতে পারে। প্রয়োজন হাঁটাচলার উপযোগী পথে আরেকটু যত্ন, সংস্কার ও বৃক্ষ রোপন শুধু।।

যত্রতত্র নয়, নির্দিষ্ট পয়েন্টে হতে পারে হোটেল, মোটেল ও ভাসমান বিনোদন ব্যবস্থা।। এ দাবী নদীর পাড়ে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের।)

প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের অবদান: ৩০ বছর পর বরিশালে উন্নয়নের ছোঁয়া

 বিশেষ প্রতিবেদক

দুই বছর আগেও নদী ভাংগনের আতংকে রাত জেগে পাহারা দিতেন বরিশালের সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ও চরকাউয়ার ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। আজ তারা নিরাপদ রাত্রিযাপন করছেন সেখানে। দূর হয়েছে ভাঙন আতঙ্ক। শুধু তাই নয়, নদী তীরবর্তী এলাকায় এখন বিভিন্ন ছোট ছোট বানিজ্যিক পসরা বসিয়ে পর্যটকদের ভিড় উপভোগ করছেন তারা। করছেন বাণিজ্য। অন্যদিকে সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বেশিরভাগ সড়ক এখন পিচঢালা পথ। অথচ দু বছর আগেও এগুলো ছিলো হাঁটু কাঁদা পানিতে ব্যবহার অনুপযোগী। দীর্ঘ ৩০ বছর সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের পূর্ব কর্ণকাঠী থেকে চরকারঞ্জী হাইস্কুলে যাওয়ার সরাসরি কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিলো না। ছেলেমেয়েদের সাঁতার কেটে পার হওয়ার ভিডিও দেখে নিজেই ছুটে যান বরিশালের সদর উপজেলার সংসদ সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল অবঃ জাহিদ ফারুক শামীম। স্বচক্ষে পরিস্থিতি দেখে সাথে সাথে ঐ এলাকার সড়ক ও ব্রীজ নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগ নামেই যে কর্ণকাঠীর মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিতেন, তাদের কাছে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম  এমপি এখন এক বিশ্বাসের নাম। পূর্ব কর্ণকাঠী গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা মূসা খান, রফিকুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন সহ মেম্বার মজিবর রহমান লিচু বলেন, এই এলাকার প্রধান সমস্যাই ছিলো ব্রীজ আর সড়ক। কর্ণেল অবঃ জাহিদ ফারুক শামীম এমপি এসে নিজে সব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছেন এবং প্রথমেই পাঁচটি ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। সড়কের কাজও এখন শুধু টেন্ডার হবার অপেক্ষা। এসময় গ্রামবাসী অভিযোগ তুলে বলেন, স্থানীয় কিছু আওয়ামী লীগ নেতারা তার কাজের বিরোধিতা করে হয়রানি করছে। তারা ঠিকাদার বিএনপির লোক দাবি করে মামলা দিয়ে দুটি ব্রীজ নির্মাণের কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বলে জানান গ্রামবাসী।

এদিকে বরিশালের আনাচে কানাচে আওয়ামী লীগের একটা মহল প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের বিরুদ্ধে অপ প্রচারণা চালাতে শুরু করেছে। তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে জাহিদ ফারুকের মনোনয়ন ঠেকাতে বদ্ধপরিকর। তারা সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল অবঃ জাহিদ ফারুক এর উন্নয়নমূলক প্রায় সবকাজেই বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে স্বীকার করেন জাহিদ ফারুক সমর্থক নেতারাও। বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিমউদদীন, জিন্নাহসহ সুফল ভোগী গ্রামবাসীদের অনেকেই জানান, খাল খনন, সড়ক ব্রীজ ও কালভার্টের নির্মাণ কাজে আওয়ামী লীগেরই একটি অংশ বারবার বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা তাদের পছন্দের নেতাদের ঠিকাদারি কাজ না দিলেই কাজে যেমন বাঁধা দিচ্ছেন, তেমনি বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন বলে দাবী করেন বরিশালের চরকাউয়া, টুঙ্গিবাড়িয়া, চাঁদপুরা ও রায়পাশা- কড়াপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা। গ্রামবাসীরা এসময় প্রমাণ হিসেবে দুটি অসমাপ্ত ব্রীজ ও চাঁদপুরার তালুকদার হাট থেকে ঘোপের হাট সড়ক দেখিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশের লোকেরা এই ব্রীজের ঠিকাদারকে হয়রনি করার কারণে এ অংশের কাজ বন্ধ হয়ে আছে। সড়কগুলো বেশিরভাগ আধাআধি কাজ হয়ে পরে আছে।

২০ আগস্ট রবিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা বিভিন্ন ইউনিয়ন ও বরিশাল নগরীতে ঘুরে জানা যায়, বরিশাল সদর উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রামেই এখন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের সমান জনপ্রিয়তা। এই জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আওয়ামী লীগের একটি অংশ তাকে নাজেহাল করতে উঠে পরে লেগেছে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে খোকন সেরনিয়াবাত বিজয়ী হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের ঐ অংশটির কেউ কেউ প্রকাশ্যে ‘প্রতিমন্ত্রী হঠাও, শ্লোগানও দিতে শুরু করেছে। আগামী নির্বাচনে জাহিদ ফারুক আর মনোনয়ন পাবে না বলেও প্রপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে তারা।
বিশেষ করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত তার বক্তব্যে সংসদ সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম’কে আবারো মনোনয়ন প্রদান এবং তাকে নিয়ে যৌথভাবে বরিশালের উন্নয়নের ঘোষণা দিলে আওয়ামী লীগের ঐ অংশটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা ইতিমধ্যেই নগরীর নথুল্লাবাদ, রূপাতলী সহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একদল কিশোর বাহিনী নিয়ে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব শুরু করেছে। এদের মদদ দিচ্ছে সাদিক আব্দুল্লাহ পন্থী কয়েকজন কাউন্সিলর, যারা এখন নিজেদের খোকন পন্থী বলে প্রচারের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। বরিশালের আমতলা মোড়ের স্বাধীনতা পার্কের সামনে ভাসমান দোকানদারেরা কয়েকজন অভিযোগ তুলে বলেন, গত চার-পাঁচ দিন ধরে একদল যুবক এসে তাদের কাছে চাঁদা দাবী করেছে। দোকান প্রতি ৫০ টাকা করে না দিলে বসতে দেবে না বলে হুমকীও দিয়েছে। এরা সবাই স্থানীয় কাউন্সিলরের লোক বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এসময় ১৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবীর জানান, আমাদের কোনো ছেলেরা কখনো এগুলো করেনা। এসব এখন নতুন যারা নেতা হচ্ছেন তাদের লোকের কাজ বলে জানান তিনি।

এসময় সামাজিক ও পরিবেশ আন্দোলনের নেতা এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, গত ৩ জুলাই নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা ইতিপূর্বে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর এর পরিণতি দেখেছি। তাই বরিশালে একসাথে দুজন মেয়রের ভূমিকা স্বাভাবিক কারণেই প্রশ্ন তোলে। তিনি আরো বলেন, খোকন সেরনিয়াবাত মেয়র নির্বাচিত হবার পরপরই বাস টার্মিনাল, স্প্রিটবোট ঘাট ও হাটবাজারের দখলদারিত্বের পরিবর্তন দেখেছি। নগরীর কোনো পরিবর্তন তো দূরের কথা এখন সবকিছু স্থবির হয়ে আছে।
সামাজিক আন্দোলনের নেতা ও চিন্তাবিদ কাজী মিজানুর রহমান বলেন, এই মুহূর্তের বরিশালে একটা হযবরল পরিস্থিতি চলছে। কোনো বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলমান উন্নয়ন ধারা থেকে যেমন বঞ্চিত হয়েছে বরিশাল, একইভাবে স্থানীয় সংসদ সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল অবঃ জাহিদ ফারুক এর উন্নয়ন চেষ্টাও বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত চলে গেছে বলে শুনেছি। কাজী মিজান আরো জানান, বরিশাল সিটি করপোরেশন হয়েছে প্রায় ২২ বছর হতে চললো। এখন পর্যন্ত
বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন হয়নি। সরকারি প্রায় ২০-২২টি প্রতিষ্ঠান এখনো খুলনা বিভাগের অধীনে থাকাটা কি একটি বিভাগীয় শহরের জন্য লজ্জার নয় বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

গত চার বছরে কোনো বরাদ্দ না পাওয়া সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতা বলে স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে। যার প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া গেছে গত ১২ জুনের নির্বাচনে। এই নির্বাচনে বর্তমান পরিষদের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এর চাচা আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তিনি নৌকা প্রতীকের ৮৭ হাজার ৮০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
তার জয়ী হওয়ার পর থেকে নতুন সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে বরিশালবাসীর মনে। সবাই এখন স্বপ্ন দেখছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি ও মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত বদলে দেবেন বরিশালের চলমান দৃশ্যপট।

সংবাদটি শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো সংবাদ...
© All rights reserved © ২০২৩ স্মার্ট বরিশাল
EngineerBD-Jowfhowo