২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ দুপুর ২:৪৭

প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক ও মেয়র খোকন আবদুল্লাহ’র বন্ধুত্বে অবহেলিত নগরীতে নতুন সম্ভাবনা

বিশেষ প্রতিবেদক:-
  • আপডেট সময়ঃ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৪, ২০২৩,
  • 598 পঠিত

স্বপ্ন জেগেছে বরিশালবাসীর মনে। নবনির্বাচিত মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত শপথ গ্রহণের পর থেকেই এ স্বপ্ন ক্রমশ ডালপালা ছড়িয়ে বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম এবং মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের বন্ধুত্ব বরিশালবাসীকে আশাবাদী হতে সাহায্য করছে। যেকোনো সভা সমাবেশে তারা দুজন একসাথে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওয়াদা করছেন। যা স্বপ্ন তৈরি করছে সকলের মনে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম ও নবনির্বাচিত মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকায় সদর উপজেলার পাশাপাশি অবহেলিত নগরীর উন্নয়ন অনেকটা তরান্বিত হবে বলে মনে করছেন নগরবাসী।

তারা বলছেন বিগত ৫ বছরে এই নগরীর কোন উন্নয়ন হয়নি। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সব ক্ষেত্রেই অনুন্নয়নের ছাপ। বিগত সময়ে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং একক আধিপত্য ধরে রাখার প্রতিযোগীতার কারণেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে নতুন মেয়র ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে শুরু থেকেই যে একটা মেলবন্ধন তৈরী হয়েছে তাতে করে এটা অনেকটা নিশ্চিত করেই বলা যায় বরিশালের উন্নয়নে বড় ধরণের পরিবর্তন আসছে।

এদিকে সংসদ সদস্য হিসেবে জাহিদ ফারুক শামীম প্রথম দুবছর তেমন উল্লেখযোগ্য কাজ দেখানোর সুযোগ পাননি করোনার কারণে। করোনা মহামারীর প্রকোপ কমার পর তিনি কোমড় বেঁধে ছুটে বেড়াচ্ছেন নিজ আসন ছাড়াও নদী ভাঙন কবলিত বরিশালের ১০ উপজেলাতেই। এখানে সদর আসনেও রয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। দুই বছর আগেও নদী ভাঙনের আতংকে রাত জেগে পাহারা দিতেন বরিশালের সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ও চরকাউয়ার ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। আজ তারা নিরাপদ রাত্রিযাপন করছেন সেখানে। দূর হয়েছে ভাঙন আতঙ্ক। শুধু তাই নয়, নদী তীরবর্তী এলাকায় এখন বিভিন্ন ছোট ছোট বানিজ্যিক পসরা বসিয়ে পর্যটকদের ভীড় উপভোগ করছেন তারা। জমে উঠেছে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। অন্যদিকে সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বেশিরভাগ সড়ক এখন পিচঢালা পথ। অথচ দু বছর আগেও এগুলো ছিলো হাঁটু কাঁদা পানিতে ব্যবহার অনুপযোগী। দীর্ঘ ৩০ বছর সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের পূর্ব কর্ণকাঠী থেকে চরকারঞ্জী হাইস্কুলে যাওয়ার সরাসরি কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিলো না। ছেলেমেয়েদের সাঁতার কেটে পার হওয়ার ভিডিও দেখে নিজেই ছুটে যান জাহিদ ফারুক শামীম। স্বচক্ষে পরিস্থিতি দেখে সাথে সাথে ওই এলাকার সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

তাই কর্ণকাঠী ও চরকাউয়া এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি এখন এক বিশ্বাসের নাম। পূর্ব কর্ণকাঠী গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা মূসা খান, রফিকুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন, মেম্বার মজিবর রহমান লিচু বলেন, এই এলাকার প্রধান সমস্যাই ছিলো ব্রিজ আর সড়ক। জাহিদ ফারুক শামীম এমপি এসে নিজে সব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছেন এবং প্রথমেই পাঁচটি ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। সড়কের কাজও এখন শুধু টেন্ডার হবার অপেক্ষা।

এদিকে বরিশালের আনাচে কানাচে আওয়ামী লীগের একটা মহল প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের বিরুদ্ধে অপ প্রচার চালাতে শুরু করেছে। তারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাহিদ ফারুকের মনোনয়ন ঠেকাতে বদ্ধপরিকর। তারা সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এর উন্নয়নমূলক প্রায় সব কাজেই বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে স্বীকার করেন জাহিদ ফারুক সমর্থক নেতারাও। উন্নয়নের সুফল ভোগী গ্রামবাসীদের অনেকেই জানান, খাল খনন, সড়ক ব্রিজ ও কালভার্টের নির্মাণ কাজে আওয়ামী লীগেরই একটি অংশ বারবার বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা তাদের পছন্দের নেতাদের ঠিকাদারি কাজ না দিলেই কাজে যেমন বাঁধা দিচ্ছেন। তেমনি বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন বলে দাবী করেন বরিশালের চরকাউয়া, টুঙ্গিবাড়িয়া, চাঁদপুরা ও রায়পাশা- কড়াপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা। গ্রামবাসীরা এসময় প্রমাণ হিসেবে দুটি অসমাপ্ত ব্রিজ, চাঁদপুরার তালুকদার হাট থেকে ঘোপের হাট সড়ক এবং চরবাড়িয়া বেড়িবাঁধের অবস্থা দেখিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশের লোকেরা এই ব্রিজ নির্মান কাজের ঠিকাদারকে হয়রানি করার কারণে এ অংশের কাজ বন্ধ হয়ে আছে।

সংযোগ খালে পারাপারের জন্য ব্যবহার হচ্ছে গাছ। নারী ও শিশুরা পার হতে পারেন না।

২০ আগস্ট রবিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিয়ন ও বরিশাল নগরীতে ঘুরে জানা যায়, বরিশাল সদর উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রামেই এখন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের সমান জনপ্রিয়তা। এই জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আওয়ামী লীগের একটি অংশ তাকে নাজেহাল করতে উঠে পরে লেগেছে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে খোকন সেরনিয়াবাত বিজয়ী হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের ওই অংশটির কেউ কেউ প্রকাশ্যে প্রতিমন্ত্রী হঠাও, শ্লোগানও দিতে শুরু করেছে। আগামী নির্বাচনে জাহিদ ফারুক আর মনোনয়ন পাবে না বলেও প্রপাগা-া ছড়াচ্ছে তারা।
এদিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত তার বক্তব্যে সংসদ সদস্য জাহিদ ফারুককে আবারো মনোনয়ন প্রদান এবং তাকে নিয়ে যৌথভাবে বরিশালের উন্নয়নের ঘোষণা দিলে আওয়ামী লীগের ওই অংশটি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে জানান কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলর।

এরা নিজেদের স্থানীয় কাউন্সিলর ও নতুন মেয়র এর লোক বলে পরিচয় দিচ্ছে। এসময় ১৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবীর  জানান, আমাদের কোনো ছেলেরা কখনো এগুলো করেনা। এসব এখন নতুন যারা নেতা হচ্ছেন তাদের লোকের কাজ বলে জানান তিনি।

সামাজিক ও পরিবেশ আন্দোলনের নেতা এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, গত ৩ জুলাই নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা ইতিপূর্বে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর এর পরিনতি দেখেছি। তাই বরিশালে একসাথে দুজন মেয়রের ভূমিকা স্বাভাবিক কারণেই প্রশ্ন তোলে। তিনি আরো বলেন, নগরীর কোনো পরিবর্তন তো দূরের কথা এখন সবকিছু স্থবির হয়ে আছে।

সামাজিক আন্দোলনের নেতা ও চিন্তাবিদ কাজী মিজানুর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে বরিশালে একটা হযবরল পরিস্থিতি চলছে। কোনো বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলমান উন্নয়ন ধারা থেকে যেমন বঞ্চিত হয়েছে বরিশাল, একইভাবে স্থানীয় সংসদ সদস্য পানি জাহিদ ফারুক এর উন্নয়ন চেষ্টাও বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত চলে গেছে বলে শুনেছি। কাজী মিজান আরো জানান, বরিশাল সিটি করপোরেশন হয়েছে প্রায় ২২ বছর হতে চললো। এখন পর্যন্ত বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন হয়নি। সরকারি প্রায় ২০-২২টি প্রতিষ্ঠান এখনো খুলনা বিভাগের অধীনে থাকাটা কি একটি বিভাগীয় শহরের জন্য লজ্জার নয় বলে প্রশ্ন তুলে কাজী মিজানুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্য জাহিদ ফারুক ভালো মানুষ,  তার মধ্যে বরিশালের উন্নয়ন করার প্রবনতা দেখেছি। তিনি ও খোকন সেরনিয়াবাত একসাথে হলে বরিশালও বদলে যাবে বলে আশাবাদী আমরা।

গত চার বছরে কোনো বরাদ্দ না পাওয়া সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতা বলে স্পষ্ট প্রমানিত হয়েছে। যার প্রত্যক্ষ প্রমান পাওয়া গেছে গত ১২ জুনের নির্বাচনে। এই নির্বাচনে বর্তমান পরিষদের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এর চাচা আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তিনি নৌকা প্রতীকে ৮৭ হাজার ৮০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার জয়ী হওয়ার পর থেকে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বরিশালবাসীর মনে। সবাই এখন স্বপ্ন দেখছেন প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি ও মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত বদলে দেবেন বরিশালের চলমান দৃশ্যপট।

সংবাদটি শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো সংবাদ...
© All rights reserved © ২০২৩ স্মার্ট বরিশাল
EngineerBD-Jowfhowo