২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ রাত ৮:৫১

বরিশালে আওয়ামী লীগের নৌকা ঢুবাতে ব্যস্ত আওয়ামী লীগার ! অভ্যন্তরীণ কোন্দলে চাপা পরে যাচ্ছে সরকারের উন্নয়ন

এম.এস.আই লিমন :-
  • আপডেট সময়ঃ রবিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৩,
  • 252 পঠিত

এম.এস.আই লিমনঃ

ব্যক্তিপছন্দসই নেতাকে খুশী করতে গিয়ে সরকার দলীয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সফলতার দৃশ্যমান উন্নয়নের মাইলফলকে কাঁদা লাগিয়ে সংগঠনে বিভাজন সৃষ্টি করে আসছে অতিরঞ্জিত কতিপয় আওমিলীগাররা। এক সময়ের বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত বরিশালকে টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের মাধ্যমে দলমত নির্বিশেষে আওয়ামী লীগ বর্তমান স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রচেষ্টায় টেকসই উন্নয়ন করে সংগঠনটিকে শক্ত পোক্ত অবস্থান তৈরী করে দক্ষিণাঞ্চলের নৌকায় পাল তুলে হাওয়া আসলেও কতিপয়দের কাঁদাছোড়াছুড়িতে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংগঠনকে। এর প্রভাব আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরার শংকায় রয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা।

 

বর্তমান সরকারের নানামুখি উন্নয়ন মূলক কাজ করা সত্ত্বেও নিজেরাই নিজেদের সংগঠনের বিরুদ্ধে কথা বলায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সংগঠনকে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী বরিশালে আওয়ামীলীগারদের ভূমিকা এ অঞ্চলে ব্যাপক দৃষ্টান্ত উন্নয়ন মূলক কাজ বাস্তবায়ন করা সত্বেও কাঁদা ছোড়াছুড়িতে সেসব উন্নয়ন মূলক কাজের বিষয় কাঁদা চাপায় পড়ে যাচ্ছে যা সরকারের জন্য অশনী সংকেত দেয় বলেও জানান প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতারা।

মারধর ও জুতার মালা পরানোর অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি নাজমুল হাসান ওরফে মঈন জমাদ্দার

বরিশালে ব্যক্তিগত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিদায়ী মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ছবি নামিয়ে ফেলায় মনিরুজ্জামান খান বাচ্চু নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ীকে আটকে মারধর এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে।

জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য নাজমুল হাসান ওরফে মঈন জমাদ্দারের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হেনস্তার শিকার মনিরুজ্জামান খান বাচ্চু চরামদ্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সোনার বাংলা মটরসের স্বত্বাধিকারী।

এদিকে ব্যবসায়ীর গলায় জুতার মালা পরানোর দুটি ভিডিও ইতোমধ্যে সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এর মধ্যে একটি ভিডিও এক মিনিট দুই সেকেন্ডের, অপরটি ১৭ সেকেন্ডের।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে বলতে শোনা গেছে, সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ছবি নামিয়ে রাখায় শাস্তিস্বরূপ গলায় জুতার মালা পরানো হয়েছে। একটি ভিডিওতে ওই ব্যবসায়ীকে বাধ্য করা হয়েছে সাদিক আব্দুল্লাহর ছবি দোকান থেকে নামিয়ে রাখা অন্যায় হয়েছে বলতে। অপরটিতে শোনা গেছে, ছবি নামানোর শাস্তিস্বরূপ শিক্ষা দেওয়ার কথা।

মারধরের শিকার আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান খান বাচ্চু বলেন, বরিশালের ১১নং ওয়ার্ড বান্দ রোডে সোনার বাংলা মটরস নামে আমার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে। মূলত আমার পূর্ব পরিচিত নাজমুল হাসান ওরফে মঈন জমাদ্দারের নেতৃত্বে আমাকে নির্যাতন করা হয়। ২২ আগস্ট মোবাইলে আমাকে ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুর রহমান ছাবিদের ক্লাব হিসেবে পরিচিত শহীদ রহিম স্মৃতি পাঠাগার ক্লাবের পশ্চিম পাশের কক্ষে ডেকে নেন। বিকেল ৩টার দিকে সেখানে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রুম আটকে ওখানে থাকা সাব্বির, আব্দুল, কাওছার, সোহাগ মারধর শুরু করে। এর মধ্যে একজন বিএনপির সমর্থক ও বাকি চারজন সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারী। আমাকে রুমের মধ্যে আটকে ৮/৯ দফায় মারধর করে। মারধর করে তারা আমাকে বলতে বলে যে আমার ব্যক্তিগত অফিস থেকে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর ছবি নামিয়েছি। ওরা যতবার এই কথা বলতে বলেছে, ততবার আমি বলেছি যে সাদিক আব্দুল্লাহর ছবি আমার অফিস থেকে আমি নামাইনি। শেষে মারধরের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। পরে বাধ্য হয়ে ওদের শেখানো কথা বলি যে সাদিক আব্দুল্লাহর ছবি নামিয়েছি এবং তা অন্যায় হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী। আমাকে হেনস্তা করার জন্য কাওছার জুতার মালা বানিয়ে দেয় আর সোহাগ আমার গলায় পরিয়ে দেয়। আমি দুই-তিনবার ফেলে দিই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে আরও মারধর করে। শেষে আমি জ্ঞান হারালে গলায় জুতার মালা পরিয়ে চেয়ারে বসিয়ে ভিডিও করে।

মনিরুজ্জামান খান বাচ্চু বলেন, এর আগে মঈন জমাদ্দার কয়েক দফায় হুমকি দিয়েছে, আমি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহর পক্ষে কাজ করলে বরিশালে থাকতে দেবে না। সাদিক আব্দুল্লাহ বরিশালে ফিরলে আমাকে মারধর করবে। আমার কক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের ছবি আছে। যেহেতু আমি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি এবং আমার অফিস সোনার বাংলা মটরসে বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ আসেন। এই ইস্যু কাজে লাগিয়ে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে যে সাদিক আব্দুল্লাহর ছবি আমার অফিস থেকে নামিয়ে রেখেছি। এই অভিযোগ তুলে আমাকে মারধর ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।

এরআগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে মঈন প্রকাশ্যে হুমকি ধামকি দিয়ে স্টাটাস দিয়েছেন।
এছাড়াও বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র একাধিক নেতারা বলেন অতিরঞ্জিত কিছু বিকৃতমস্তিষ্কের ব্যক্তীরা নিজেদের আওয়ামী লীগ দাবী করে দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে আসছে যা বর্তমানে ব্যপক পরিসরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায়।

বরিশালে সদ্য বিদায়ী আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদিক আব্দুল্লাহ বনাম পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ এর সহ সভাপতি কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি এবং নবনির্বাচিত মেয়র বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত কে নিয়ে যেসকল মন্তব্য করা হচ্ছে এবং তা ফেইসবুক লাইভ ও উস্কানীমূলক মন্তব্য পোস্টে তাদের রোস্ট করা হচ্ছে তাতে সংগঠন এর ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে। সরকার প্রধান এবং আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা এ ধরনের কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হলেও তা বরিশালে সদ্য বিদায়ী মেয়র সহ তার অনুসারীরা কোন মতেই আমলে না নিয়ে সংগঠনের নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে ব্যক্তিপছন্দসই নেতাকে বড় করতে গিয়ে স্থানীয় এমপি মন্ত্রী মেয়রের বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করে তাদের দিকে আঙুল তুলছে। এতে করে সর্বপরি বর্তমান সরকারের নানামুখি উন্নয়ন মূলক কাজ করা সত্ত্বেও নিজেরাই নিজেদের সংগঠনের বিরুদ্ধে কথা বলায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সংগঠনকে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী বরিশালে আওয়ামীলীগারদের ভূমিকা এ অঞ্চলে ব্যাপক দৃষ্টান্ত উন্নয়ন মূলক কাজ বাস্তবায়ন করা সত্বেও কাঁদা ছোড়াছুড়িতে সেসব উন্নয়ন মূলক কাজের বিষয় কাঁদা চাপায় পড়ে যাচ্ছে যা সরকারের জন্য অশনী সংকেত দেয় বলেও জানান প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতারা।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নাজমুল হাসান ওরফে মঈন জমাদ্দার বলেন, মনিরুজ্জামান খান বাচ্চুর যে ভিডিও ছড়িয়েছে তা আমি ধারণ করেছি ও ছড়িয়েছি এটা সত্য। কিন্তু জুতার মালা পরানোর যে ভিডিও তার আগের ভিডিওর সঙ্গে সম্পৃক্ত না। তাছাড়া ওখানে সাদিক আব্দুল্লাহর নাম বলাটাও আমার উচিত হয়নি। এটা আমি ভুল করেছি। এজন্য সাদিক ভাইও (সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ) আমার ওপর খুব ক্ষিপ্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, মারধর ও জুতার মালা পরানোর অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছেন মনিরুজ্জামান খান বাচ্চু। মামলায় নাজমুল হাসান ওরফে মঈন জমাদ্দার ও মো. সোহাগের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

রোববার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় মুঠোফোনে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের এসআই আরাফাত হাসান। তিনি বলেন, মামলা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো সংবাদ...
© All rights reserved © ২০২৩ স্মার্ট বরিশাল
EngineerBD-Jowfhowo