২৮শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ দুপুর ২:২১

বিশেষ প্রতিবেদক:-
  • আপডেট সময়ঃ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৩,
  • 75 পঠিত

চার হাত বদলেই ৪০ টাকার ডাব ২৫০ টাকা!

বাগানে একেকটি ডাব ৪০ থেকে ৪৫ টাকা; কিন্তু ভোক্তাকে গুনতে হয় দেড়শ’ থেকে আড়াইশ’ টাকা। ডাবের বাজার নিয়ে চলছে ভয়াবহ রকমের কারসাজি! দেশে চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে পুঁজি করে যে যেভাবে পারছেন, সেভাবেই বাড়াচ্ছেন দাম। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই মৌসুমি বিক্রেতারাও; চড়া দাম হাঁকাচ্ছেন তারাও। গাছ থেকে মাত্র ৪ হাত ঘুরলেই দাম বাড়ে ৫/৬ গুণ।

বরিশাল, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি ঘুরে দেখা গেছে, ডাবের দাম নিয়ে সবখানে প্রায় একই চিত্র।

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের কোনো শয্যা খালি নেই। অতিরিক্ত চাপে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন মেঝেতে শুয়ে, বারান্দা ছাপিয়ে, এমনকি বাথরুমের সামনেও। উদ্বেগজনকহারে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ায় তরল খাবারের পরামর্শ চিকিৎসকের।

এমন পরিস্থিতিতে ডাবের পানিতেই আস্থা রোগী ও স্বজনদের; ফলে বেড়েছে এর চাহিদাও। আর এ পরিস্থিতিকে পুঁজি করে বেপরোয়া একদল ব্যবসায়ী। হু হু করে বাড়িয়ে দিচ্ছেন ডাবের দাম।

শের-ই বাংলা মেডিকেলের সামনে ডাবের দোকানে দেখা গেল বেশ ভিড়। এখানে মানভেদে প্রতি পিস ডাবের দাম হাঁকা হচ্ছে দেড়শ’ থেকে আড়াইশ’ টাকা। দাম শুনে ক্রেতার মাথায় হাত। কারও চোখে অপার বিস্ময়! নিয়ন্ত্রণহীন দাম নিয়ে বিক্রেতার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়াচ্ছেন অনেকে।

স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর ডাবের জন্য যেন নিরুপায় ভোক্তা। পকেট কাটলেও স্বজনের অসুখে বাধ্য হচ্ছেন কিনতে। তবে বিক্রেতারা দায় চাপান আড়তদারের ওপর।

ক্রেতারা জানান, দাম এতো বেশি যে, একজোড়া ডাব কিনতে ক্ষেত্রবিশেষ দিনের অর্ধেক কামাই শেষ হয়ে যায়। এখন রোগী নিয়ে বিপদে থাকায় বাধ্য হয়ে ডাব কিনতে হচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, তারা তো কিনে এনে বিক্রি করেন। লাভ করেই বিক্রি করতে হয়। আড়ত থেকে বেশি দামে ডাব কিনতে হয়; তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ডাবের দাম কমা-বাড়া তাদের হাতে নেই; বরং আড়তদাররাই এসব নিয়ন্ত্রণ করে।

ডাবের এমন অস্থির দামে ক্রেতাদের কপালে ভাঁজ। বিক্রেতাদের যখন দাবি বাড়তি দামে কেনা, চলুন জেনে আসি ডাবের বাগানে কত চলে দাম।

বরিশাল নগরে বাজারে কিংবা আড়তে যে ডাব পাওয়া যায়, তার বেশিরভাগই পাশের জেলা ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের। দাম যাচাইয়ে ঝালকাঠির সবচে বড় বাগান কীর্তিপাশায়। সেখানে গিয়ে সময় সংবাদ জানলো, পাইকারদের কাছে থেকে প্রতি পিসে চাষি পান মাত্র ৪০ টাকা। বড় আকারের ডাব হলে সর্বোচ্চ মেলে ৪৫ টাকা।

ঝালকাঠি থেকে পিরোজপুরের বাগানে গিয়েও দেখা গেল একই চিত্র। তবে ভোক্তার পকেট কাটা হচ্ছে কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে চাষিরা বলছেন, হাত বদলের সঙ্গে বাড়তে থাকে দাম। পরিবহন খরচের দোহাই দিলেও দাম বাড়ানোর পরিসংখ্যান অস্বাভাবিক। মূলত বাগান থেকে মাত্র চার হাত ঘুরে ৪০ টাকার ডাব গিয়ে ঠেকে আড়াইশ’ টাকায়। এ লাভের বড় অংশই যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে।

চাষিরা জানান, এখানে পাইকাররা এসে ডাব নিয়ে যান। তারা প্রতি পিস ডাব বিক্রি করেন ৪০ টাকায়। মাঝে মধ্যে আকারে বড় ডাবের ক্ষেত্রে ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়। পরে পাইকাররা একে অন্যের কাছ থেকে নিতে নিতে একেকটা ডাবের দাম গিয়ে দাঁড়ায় ২০০ টাকায়।

পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মো. নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, ‘ডাবসহ সব কৃষি পণ্যের বিপণন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হতে হবে। কৃষক যাতে ন্যায্যমূল্য পায়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।’

প্রশ্ন হচ্ছে, ডাবের দামে এমন ভয়াবহ রকমের নৈরাজ্য চললে তা নিয়ন্ত্রণ করবে কে? সাধারণ মানুষ মনে করেন প্রশাসনের নজরদারি থাকলে স্বস্তি মিলতো ক্রেতার। তবে ভোক্তার অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থার কর্মকর্তা জানালেন, ডাব নিয়ে সিন্ডিকেট থাকলে তা দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বরিশাল জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকারী বলেন, ‘আমরা যখন সিভিলে যাই, তখন এক রকম দাম পাই। আবার যখন অপারেশনে যাই তখন আবার দামের ভিন্নতা পাই। তো দুই দামের এ অসমতা ঠিক করতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরই মধ্যে আমরা সতর্কতামূলক জরিমানা করছি।’

সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও, বরিশাল বিভাগে ৬ হাজার ৪৪১ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ মেট্রিক টন ডাব হয় বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে সবচে বেশি হয় পিরোজপুরে। শুধু বরিশাল বিভাগ থেকেই প্রতিবছর প্রায় ৩ থেকে ৫ কোটি টাকার ডাব দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো সংবাদ...
© All rights reserved © ২০২৩ স্মার্ট বরিশাল
EngineerBD-Jowfhowo