১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ সকাল ৯:৫২

এবার কাউন্সিলরের পিস্তল ছিনিয়ে নিতে সংঘবদ্ধ হামলা চালায় রইজ মান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক:-
  • আপডেট সময়ঃ রবিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৩,
  • 234 পঠিত

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এর কাউন্সিলরের ওপর সংঘবদ্ধ ভাবে হামলা চালিয়ে পিস্তল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা শ্রমিক লীগ নেতার নেতৃত্বে

বরিশালে জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ও সিটি কাউন্সিলর একেএম মুরতজা আবেদীনের ওপর হামলা চালিয়ে পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন মহানগর শ্রমিক লীগ সাধারণ সম্পাদক রইজ আহম্মেদ মান্না। এই ঘটনার দুইটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মুরতজার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

রবিবার দুপুর ১২টার দিকে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে। মান্না সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারী।

এই ঘটনায় পিস্তলসহ মুরতজা আবেদীনকে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর একে এম মুরতজা আবেদীনের করা ৮ মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমি অফিস থেকে মুরতজা আবেদীন বের হওয়ার সময় ভূমি অফিসের সামনে রইজ আহম্মেদ মান্না ও তার অনুসারীদের অবস্থান করতে দেখেন। তারপর দুজনের মধ্যে কিছু কথা হয়। এরপর মান্না মুরতজার উদ্দেশে নানা কথা বলতে থাকেন। মান্নার স্ত্রীকে মারধর করা হয়েছে বলে মুরতজার দিকে অভিযোগ ছোড়া হয়। একপর্যায়ে মান্না মুরতজাকে তুই সম্বোধন করে কথা বলা শুরু করলে কথাকাটাকাটি হয় এবং মান্না ও তার সহযোগীরা মুরতজা আবেদীনের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে মান্না একটি ব্যাটারি চালিত অটোর মধ্যে মুরতজা আবেদীনের কাছ থেকে পিস্তল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে বেশ কিছু সময় ধস্তাধস্তি হয়। পরে মান্নার এক সহযোগী পিস্তলটি নিয়ে যায়।

এদিকে ফেসবুকে ছড়ানো অপর একটি ৫৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ব্যাটারি চালিত অটোর মধ্যে মান্না ও মুরতজার মধ্যে ধস্তাধস্তি হচ্ছে পিস্তল নিয়ে। তখন মান্না বলছিলো মুরতজা তাকে গুলি করতে চেয়েছে। আর মুরতজা পিস্তলটি তার লাইসেন্সকৃত বলে চিৎকার করে বলছিল। এর মধ্যে এক যুবক এসে পিস্তলটি নিয়ে যায়।

২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, মুরতজা আবেদীনের ওপর হামলা পরিকল্পিত। কেননা মুরতজা নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার পরপরই মান্না ও তার অনুসারীরা মুরতজার পিছু নিয়েছিলে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।

ঘটনার সময়ে উপস্থিত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শফিক আহমেদ বলেন, ভূমি অফিস থেকে অস্ত্র হাতে মর্তুজাসহ দুইজনে দৌড়ে এসে একটি হলুদ অটোতে ওঠেন। এসময়ে কিছু লোকজন অস্ত্রসহ মর্তুজাকে ধরে পুলিশকে খবর দেয়।

জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ও ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর একেএম মুরতজা আবেদীন বলেন, আমার ওপর হামলা হতে পারে সেটা আমি আন্দাজ করতে পেরেছিলাম। কেননা বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকেই আমাকে ফলো করছিলো ওরা। ভূমি অফিস থেকে বের হওয়ার পর পরই আমার ওপর হামলা চালায় মান্নার লোকজন। এ সময় আমার কাছে থাকা লাইসেন্সকৃত পিস্তল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে মান্না।

বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রইজ আহম্মেদ মান্না জানান, আমি পারিবারিক জমি সংক্রান্ত কাজে সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে যাই। কাজ শেষে বেরিয়ে গেটে আসামাত্র অফিস থেকে বেরিয়ে মতুর্জা আবেদিন আমাকে গালিগালাজ করে। এর প্রতিবাদ করলে হঠাৎ পিস্তল বের করে গুলি করতে উদ্যত হয়। এই সময়ে আমার ডাক চিৎকারে স্থানীয় জনগন এগিয়ে এসে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার ফজলুল করিম বলেন, অস্ত্রটি আমাদের হেফাজতে রয়েছে, তাছাড়া কাউন্সিলর সাহেবও থানায় রয়েছেন। আমরা বিষয়টা দেখছি। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করে দেখা হবে।

প্রসঙ্গত, বিসিসি নির্বাচনে মর্তুজা আবেদীনের অভিযোগের কারণে ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রার্থিতা হারান রইজ আহম্মেদ মান্না। কাউন্সিলর নির্বাচন নিয়ে এই দুই রাজনৈতিক নেতার সমর্থকদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। নৌকার কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় রইজ আহম্মেদ মান্না গ্রেপ্তার করা হয়।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো সংবাদ...
© All rights reserved © ২০২৩ স্মার্ট বরিশাল
EngineerBD-Jowfhowo