১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ রাত ১০:৪৯

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর পদোন্নতি জটিলতা প্রকট বছরের পর বছর শূণ্য রাখা হয় নার্সদের ১ম শ্রেনির পদগুলো

বার্তা ডেক্স:
  • আপডেট সময়ঃ শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৩,
  • 269 পঠিত

স্বাস্থ্য সেবায় নার্সিং পেশার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। মানবতার এই ফেরিওয়ালারা জীবনের অন্তিম ও অসহায় মুহূর্তে নিজেদের ভূমিকার মাধ্যমে মানব ইতিহাসে অনন্য স্থান করে নিয়েছেন। মহামারী করোনাসহ অসংখ্যবার নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে নার্সরা। নার্সিং পেশা অত্যন্ত সম্মান ও গৌরবের হলেও বাংলাদেশের বিগত সরকারগুলোর সময়ে তা অবেহেলিত ছিল। বর্তমান সরকার নার্সিং পেশাকে দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা দিয়েছে। তৈরি করা হয়েছে প্রথম শ্রেণির পদও। করোনাকালসহ গত কয়েক বছরে ২০ হাজারের বেশী নার্স সরকারিভাবে নিয়োাগ পেয়েছেন। তবে চরম জটিলতায় রয়েছে প্রথম শ্রেণিতে পদোন্নতির যোগ্য নার্সরা।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি অধিদপ্তর। এখান থেকে বাংলাদেশের সরকারি খাতের নার্সিং ও ধাত্রীবিদ্যা সম্পর্কিত সমস্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ২০১৬ সালের নভেম্বরে তৎকালীন সেবা পরিদপ্তরকে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে উন্নীত করা হয়।
দেশের ৪৬ টি সরকারি নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৭৩০টি আসনে ৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন নার্সিং এবং ৬০টি প্রতিষ্ঠানে ১৭৭৫ টি আসনে ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্স চালু করা হয়েছে।
কোর্স সম্পন্নের পর চাকুরীতে যোগদানে মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবায় অন্যতম ভুমিকা পালন করে নার্সিং পেশায় কর্মরত সদস্যরা। চিকিৎসকদের পাশাপাশি একজন নার্সও রোগীর সেবায় সর্বাত্নক ভুমিকা পালন করে। তদুপরী এ পেশার সাথে সংশ্লিস্টদের সুবিধা আটকে থাকে দায়িত্বরতদের উদাসীনতা ও অবহেলায়। আর পুরো চাকুরী জীবনে এর মাশুল গুনতে হয় ঐসকল নার্সদের। মুলত নার্সিং পেশাজীবিদের প্রাথমিক নিয়োগ হয় ২য় শ্রেণীর গেজেটেড পদমর্যাদায় ১০ম গ্রেডে। নিয়োগ দেয়া হয় বিপিএসসির মাধ্যমে। এতে মোট পদ সংখ্যা আনুমানিক ৪২ হাজারের মত। নিয়োগের পর পরবর্তী পদোন্নতি হয় ৯ম গ্রেডে প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড পদমর্যাদার অল্প কিছু সংখ্যক পদে।
নার্সিং সুপারিটেনডেন্ট, সহকারী পরিচালক, প্রভাষক, জেলা পাবলিক হেলথ নার্স ও ডেপুটি নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট এ ক’টি পদে। মোট পদ সংখ্যা আনুমানিক চার’শ এর মত। নার্সিং সুপারিটেনডেন্ট, সহকারী পরিচালক, প্রভাষক, জেলা পাবলিক হেলথ নার্স ও ডেপুটি নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট এসব পদ বছরের পর বছর শূণ্য থাকে সংযুক্তিতে চালানো হয়ে থাকে। কর্তৃপক্ষের অবিবেচিত মনোভাবের কারণে প্রতি বছর এসব পদে পদোন্নতির জন্য ফাইল চলে না। ৩/৪ বছর পর একেকবার পদোন্নতি হয়। ফলে অনেক পেশাজীবিরা পদোন্নতি না পেয়েই অবসরে চলে যান। আর যারা পদোন্নতি পান, তার বছর ছ’ মাস চাকুরী করতে পারেন।
যথা সময়ে পদোন্নতির বিপরীতে দীর্ঘসুত্রতায় অনেকে চাকুরীর অন্তিম পর্যায়েও চলে আসে। এসময় পদোন্নতি অধিদপ্তরের কর্মকান্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।
পদোন্নতির যোগ্যতা থাকা সত্তেও নার্সিং পেশাজীবিরা কর্মস্থলে এমন ভাবেই এক ধরণের হয়রানীর শিকার হয়ে আসছেন দীর্ঘ বছর ধরে। আর এমন কর্মকান্ডে এ সম্ভাবনাময়ী এ পেশাটির বিমুখ হচ্ছেন ইচ্ছুকরা।

এদিকে নার্সিং পেশাজীবিদের পদোন্নতির জটিলতার পাশাপাশি এ পেশায় পদোন্নতির পদ সংখ্যাও সংকুচিত। বর্তমানের নার্সিং সুপারভাইজার ও নার্সিং ইন্সট্রাক্টর পদগুলোও পূর্বে সিনিয়র স্টাফ নার্স পদের এক গ্রেড উপরে পদোন্নতিযোগ্য পদ ছিল। এখন এ পদ গুলো সিনিয়র স্টাফ নার্স পদের সমমান হয়ে গেছে। কিন্তু পদগুলো এখনও সুপিরিয়র (তদারকী) পদ আছে। এ পদগুলোকে যদি ৯ম গ্রেডে উন্নিত করা হয়, তাহলেও নার্সদের পদোন্নতি অনেকটা সহজ হবে বলে ধারনা করছেন নার্সিং পেশাজীবিরা। অন্যথায় চাকুরী জীবনে পদোন্নতি জটিলতায় নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হবে কর্মরতদের। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সেবায় বিরাট অবদান রাখা এ সেক্ট্ররটি থেকে বিমুখ হয়ে পড়বে সাধারন শিক্ষার্থীরা।
এডমিনিস্ট্রেশন বিশেষজ্ঞগন মনে করেন, সহকারী জেলা পাবলিক হেলথ নার্স (ফাংশনাল) পদটি যদি পুর্নাঙ্গ রুপ দেওয়া যায় তাহলে নার্স, মিডওয়াইফদের প্রশাসনিক এবং সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।
এবিষয়ে এডিপিএইচএন মোঃ কামরুল হাসান বরিশালকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে বরিশাল শেবাচিমহা এর ২টি , সদর হাসপাতাল ১টি এবং বরিশাল বিভাগের সহকারী পরিচালক নার্সিং ১টি, মোট ৪ টি প্রথম শ্রেণির পদই দীর্ঘদিন শুন্য পরে আছে।বর্তমানে ডিজিএনএম এর সম্মানিত মহাপরিচালক, সরকারের অতিরিক্ত সচিব মাকসূরা নুর এনডিসি স্যার যথেষ্ট সজাগ দৃষ্টি দিয়েছেন। তিনি আরও মনে করেন মিডওয়াইফদের উচ্চ শিক্ষার দ্বার যেহেতু উম্মচিত হয়েছে সেহেতু তাদেরও পদ, পদবি জেলা, উপজেলায় বৃদ্ধি করলে সরকারের এসডিজি অর্জন তরান্বিত হবে বলে মনে করেন।
সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটসের (এসএসএসআর) সাধারণ সম্পাদক সাব্বির মাহমুদ তিহান বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নার্সদের জন্য প্রথম শ্রেণিরও বেশ কিছু পদ তৈরি করা হয়েছে। যাতে করে এ মহান পেশাটিতে নিয়জিতরা আর্থ-সামাজিকভাবে সম্মানিত ও লাভবান হয়। তবে আমদের কিছু অব্যবস্থাপনার কারনে প্রথম শ্রেণির মর্যদা থেকে অনেকটা বঞ্চিত নার্সরা। তিনি আরো বলেন, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি একটি স্বতন্ত্র অধিদপ্তর হওয়ার পরেও এখানে কোন নার্স থেকে আসা কর্মকর্তা নেই। নার্সদের জন্য বরাদ্দকৃত ১ম শ্রেণির পদগুলো কোন এক অজানা কারনে শূন্য থাকে। এ বিষটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরো গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।
নার্সদের ১ম শ্রেণিতে পদোন্নতির বিষয়ে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ মুক্তার হোসেন বলেন, নার্সদের ১ম শ্রেণিতে পদোন্নতির বিষয়ে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। তবে শিগ্রই এর সমাধান হবে বলে জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো সংবাদ...
© All rights reserved © ২০২৩ স্মার্ট বরিশাল
EngineerBD-Jowfhowo