২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ দুপুর ২:১৭

আজ বরিশালের বরপুত্র মেয়র হীরণের নবম মৃত্যুবার্ষিকী

বিশেষ প্রতিবেদক:-
  • আপডেট সময়ঃ শনিবার, এপ্রিল ৮, ২০২৩,
  • 74 পঠিত

“তাঁর অনেক গল্প শুনেছি-গল্প শুনে অল্প অল্প ভালোবেসেছি।” একটু ঘুরিয়ে এ গানটির চরনে আশ্রয় নিতে হয় একজন সাদা মনের মানুষের কথা স্মরণ করে। ১২ জুন বরিশাল সিটি করপোরেশন বিসিসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। ৯ এপ্রিল থেকে মনোনয়ন বিক্রি শুরু করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আর এই অবসরে বরিশালের আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হচ্ছে প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হীরণের নাম। নগরীর যকেই প্রশ্ন করা হচ্ছে – আগামীতে কেমন মেয়র চান ? এক কথায় উত্তর তৈরি। হীরণ ভাইয়ের মতো মেয়র চাই। নতুন করে মানুষের মাঝে বেঁচে ওঠা আওয়ামী লীগের এই জনপ্রিয় রাজনীতিবিদের আজ মৃত্যুদিন। ২০১৪ সালের ৯ই এপ্রিল, সকাল সাতটায় তিনি পরলোকে গমন করেন বরিশাল বাসীর অন্তরে থাকা জনতার নেতা শওকত হোসেন হিরণ। বরিশালের সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে শওকত হোসেন হীরণ এর কাজের তাৎক্ষণিক উদারতা ও মহত্ত্বের নানান ঘটনা। এখানে সড়ক বর্ধিত করতে সবার আগে আপন বোনের বাড়ি ভাঙার গল্প প্রচলিত আছে মেয়র হিরণ সম্পর্কে।রিক্সাচলক, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিএনপির মহানগর আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক – আওয়ামী লীগের তালুকদার মোঃ ইউনুসসহ প্রায় সকলের মুখে কথায় কথায় প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরণের উদাহরণ চলে আসছে। কোনো কাজ মনঃপীড়া দিলেই বলা হচ্ছে – মেয়র হিরণ এটা কিছুতেই হতে দিতেন না। এমনকি জাতীয় পার্টির মহাসচিবের বর্তমান উপদেষ্টা প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপসও তার সমাজসেবার চিন্তায় শওকত হোসেন হিরণকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বরিশাল ফরএভার লিভিং সোসাইটি তৈরির পিছনের গল্প বলতে যেয়ে তিনি স্মরণ করলেন অন্তরঙ্গ বন্ধু শওকত হোসেন হিরণ ট্রাস্ট গঠনের চেষ্টা ও পরবর্তীতে এই ফরএভার লিভিং সোসাইটি তৈরি করেন একাই। পিছনে কাজ করছে হিরণের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার বাসনা বলে জানান তিনি। বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা তালুকদার মোঃ ইউনুস বলেন, চমৎকার একজন ভালো মানুষ ছিলেন শওকত হোসেন হিরণ। তিনি বরিশালের প্রতিটি মানুষকে আপন করতে পেরেছিলেন। আল্লাহ তাঁকে বেহেশত নসীব করুন। আর বরিশালে যুবদলের সব ওয়ার্ড কমিটি গঠন সম্পন্ন করে গর্বিত বিএনপির যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল হাসান জাহান বলেন, সত্য কখনো অস্বীকার করা যায়না। মেয়র শওকত হোসেন হিরণ বরিশালের চেহারাটাই বদলে দিয়েছেন। তার কাছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি বা অন্যান্য সবাই সমান সম্মানিত হয়েছেন। বরিশালের বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন পদক্ষেপ তাঁর নেয়া।ব্রাউন কম্পাউন্ডের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী কবীর চৌধুরী শওকত হোসেন হিরণ নাম শুনতেই আন্তরিকতা নিয়ে এগিয়ে এসে বললেন, তিনি একজন খাঁটি বরিশাল প্রেমিক ছিলেন। ছাত্র জীবনে বাম রাজনীতি করলেও পরবর্তীতে জাতীয় পার্টি ও তারপর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। আজকে বরিশালে আওয়ামী লীগের যে দাপট তার পুরোটাই শওকত হোসেন হিরণের জন্য। এখানে বিএনপি, আওয়ামী লীগের সহাবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। একই সময় বরিশালের একসময়ে ইত্তেফাক ও পরবর্তীতে বিভিন্ন পত্রিকার পরিশ্রমী কর্মী অনিল দাস বলেন, প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরণের সময় রাতের বরিশাল ছিলো আলো ঝলমলে নিরাপদ আশ্রয় পর্যটকদের জন্য। আর সড়কগুলো ছিলো চাদর বিছানো সৌন্দর্য। পরিচ্ছন্ন কর্মীরা রাতে গান শুনতে শুনতে শহর পরিষ্কার করতেন। যদি জানতে চাইতাম – গান শুনছো যে। তারা হেসে উত্তর দিতেন হিরণ ভাই আমাদের এতো সম্মান দিয়েছেন যে তার কাজ করতে কষ্ট হয়না, আনন্দ হয় মনে। তাই গান শুনতে শুনতে কাজ করছি। এদিকে বরিশালের মানবিক নেত্রী খ্যাত বাসদের ডাঃ মনীষা চক্রবর্তীর মুখেও মেয়র হীরণ এর প্রশংসা শুনে বিস্মিত হতে হয়। কতটা সাদা মনের মানুষ হলে দলমত নির্বিশেষে এতোটা জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন আওয়ামী লীগের একজন নেতা? বীর মুক্তিযোদ্ধা কেএসএম মহিউদ্দিন মানিক বীরপ্রতীক বললেন, তাঁর কথা মনে এলেই কষ্ট হয় খুব। এতো তাড়াতাড়ি চলে যাবে কে বুঝেছে। আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু তিনি। ঐ কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে মুক্তিযোদ্ধা পার্কসহ শহরের সব কয়টি পার্ক তাঁর তৈরি বলে কেঁদেই ফেললেন বীরপ্রতীক মহিউদ্দিন মানিক।সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হীরণ বেঁচে থাকলে হয়তো সাদা মনের সেরা রাজনীতিবিদ পুরষ্কার বা পদকটি তৈরি হতো তার জন্যে। বরিশালের সাংবাদিকরা পর্যন্ত স্বীকার করেন, মেয়র হীরণ এর সময়টা ছিলো আমাদের স্বর্ণযুগ। প্রয়াত মেয়র হীরণ এর স্মৃতি আঁকড়ে আছে এখনো বরিশালের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত সবুজ পার্ক, সৌন্দর্যবর্ধন সড়ক ও বৃক্ষরোপণ করাসহ বেশকিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। জেলা স্কুলের সামনে ব্যানার পোস্টারে ঢেকে থাকা জিপ গাড়িটি যার অনন্য উদাহরণ। বরিশাল মিউনিসিপ্যালিটির প্রথম চেয়ারম্যান প্যারীলাল রায় এর ব্যবহার করা এই গাড়িটি মেয়র শওকত হোসেন হীরন এভাবে সংরক্ষণ করে রাখেন। নতুন প্রজন্মের মাঝে বরিশালের ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরতে এমন একাধিক চেষ্টা ছিলো তার। মুক্তিযোদ্ধা পার্ক ও মুক্তিযুদ্ধের যাদুঘর সে স্মৃতি বহন করছে বড় অযত্ন অবহেলা নিয়ে। বর্তমানে সম্পাদিত এলাকার বেশিরভাগ উন্নয়নমূলক কর্মসূচীও তাঁর সময়েই গৃহিত বা পরিকল্পিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া তিনি তাঁর এলাকায় বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমঝোতা বজায় রেখেছিলেন জীবিতকালে। তিনি একাধারে একজন যোগ্য রাজনীতিক, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মেয়র এবং সংসদ সদস্য। আধুনিক বরিশালের রূপকারও বলা হয়েছে শওকত হোসেন হিরণকে। যে কারণে সাহিত্য বাজার পত্রিকা ও বরিশাল সাহিত্য সংসদের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে তাঁর মৃত্যু উপলক্ষে অসহায় হতদরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সাহায্য এবং অনাথ মাদ্রাসার জন্য একবেলা খাবারের আয়োজন করেছে এই মাহে রমজানে। হয়তো আরো অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী করবেন ব্যক্তিগত আয়োজন কিছু। তবে বরিশাল মহানগর বা জেলা আওয়ামী লীগে তাঁর স্মরণ অব্যাহত থাকবে এই এই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

‘একনজরে শওকত হোসেন হীরণ’
বরিশাল নগরীর আলেকান্দায় মামার বাড়িতে ১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর শওকত হোসেন হিরণ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার কালীশুরি ইউনিয়নের আড়াইনাও গ্রামে। তাঁর পিতা পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর আব্দুল হাসেম সরদার এবং মাতা গৃহিনী জয়নব বেগম। চার পুত্র ও ছয় কন্যার মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। শৈশব থেকে শুরু করে তার সারাজীবন কেটেছে বরিশাল নগরীর আলেকান্দায়। তিনি বরিশাল নগরীর নূরিয়া হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা পাস করেন। এরপর বিএম কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং স্নাতক পাস করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি বরিশাল ‘ল’ কলেজ থেকে এলএলবি পাশ করেন ও একজন দক্ষ আইনজীবী হিসেবেও খ্যাতি আছে তাঁর।

‘ব্যক্তি ও কর্মজীবন’ :
শওকত হোসেন হিরণের স্ত্রী বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। মৃত্যুর কিছুদিন আগে সুইডেনে পড়াশোনারত মেয়ে রোশনী হোসেন তৃণার বিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ছোট ছেলে সাজিদ হোসেন রাফসান ব্যারিস্টারি পড়ছেন। সাজিদ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য। হিরনের পরিবার নগরীর দক্ষিণ আলেকান্দার নূরিয়া স্কুল সংলগ্ন এলাকার ‘হিরন পয়েন্ট’ নামের নিজ বাড়িতে বসবাস করেন। শওকত হোসেন হিরণ পেশায় ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি ১১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন। আবার আইন পেশার সাথেও সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। তবে জনপ্রতিনিধি হবার কারণে আইন পেশায় খুব একটা মনোযোগী ছিলেন না।

‘রাজনৈতিক জীবন’
বরিশাল ল’ কলেজ থেকে এলএলবি পাশ করার পরে তিনি যোগ দেন জাসদ ছাত্রলীগে। তারপর ১৯৭৯ সালে বিএনপির ছাত্র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। ১৯৮৬ সালে তিনি যোগ দেন এরশাদের জাতীয় পার্টিতে। ১৯৮৮ সালে ২২ বছর বয়সে বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে বরিশাল সদর উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য পদের নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ঐবছর অপর একটি উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়েছিলেন হিরণ। ১৯৯৭ সালে ঐকমত্যের সরকারের শরীক দল জাতীয় পার্টির মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। ফলে তিনি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জেপি’র বরিশাল বিভাগের নেতৃত্বে আসেন।১৯৯৬ সালে তৎকালীন চীফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর হাত ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মাধ্যমে হিরণ যোগদেন আওয়ামী লীগে। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বরিশাল সদর আসনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে বিরোধী দলের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন তিনি। সক্রিয়ভাবে রাজপথের আন্দোলনের ভূমিকা রাখায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হন। তাই যোগ্যতা বিবেচনা করে ২০০৩ সালে কেন্দ্রীয় কমিটি তাঁকে মহানগর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মনোনীত করে। সাংগঠনিক দক্ষতা ও শক্তিশালী নেতৃত্ব দিয়ে তিনি মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নকে নতুন করে সাজান। ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজয় অর্জন করেন এবং মেয়র নির্বাচিত হন শওকত হোসেন হীরণ। হিরণ তাঁর নিজের কার্যক্ষমতার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে টানা ৩৫ বছর পর বরিশাল নগর ভবনের নেতৃত্বে নিয়ে আসেন। ২০১৩ সালের ১৫ জুন বিসিসি’র নির্বাচনে তিনি বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আহসান হাবিব কামালের কাছে পরাজিত হন।
এর আগে ২০১২ সালের সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বরিশাল সদর আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মেয়র হীরণ। মাত্র সাড়ে চার বছরে বরিশালের চেহারাই বদলে দেন তিনি। রাস্তায় টিস্যু, থুতু ফেলতে সাধারণ মানুষকে নিষেধ করতেন হিরণ। সবাইকে নিজের আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখার তাগিদ দিতেন। সূর্য ওঠার আগে নগরের আবর্জনা সরিয়ে নিয়েছেন তিনি। ৩০ ওয়ার্ডের বাড়ি বাড়ি থেকে বাঁশি বাজিয়ে ময়লা অপসারণের উদ্যোগও তাঁর নেয়া। নগরে বালুর গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং রাত জেগে তার তদারক করেছেন হিরন। নগরের সড়ক প্রশস্তকরণ, আলোর নগরে পরিণত করা, ফুটপাত নির্মাণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, বিনোদনকেন্দ্র, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বেগবান করাসহ সর্বত্র অবদান ছিল হিরনের। তাই তো হিরণ সবার কাছে এত প্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য আরেকটি উদারতার উদাহরণ ছিলো – ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সম্মেলন উপলক্ষে নগরীতে বঙ্গবন্ধু উদ্যানসহ আনাচকানাচে শেখ হাসিনাসহ দলের নেতা-কর্মীদের বিলবোর্ডে ছেয়ে যায়। দুইদিন পর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বরিশালে আসেন জনসভা করার জন্য। শওকত হোসেন হিরণ ওই জনসভা সফল করার জন্য নিজ দলের সব বিলবোর্ড সরিয়ে ফেলেন। সেই সব স্থানে মুহূর্তের মধ্যে খালেদা জিয়াসহ দলের নেতাদের ছবি, বিলবোর্ডে স্থান পায়। ওই জনসভা যাতে সফল হয়, সে জন্য আগের দিন বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বিএনপির জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন তিনি নিজে। বরিশালের ইতিহাসে কোনো ধরনের হামলা ও সহিংসতা ছাড়া বিএনপির ওই জনসভা সফল হয়। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বরিশালে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাস, অন্য দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের সব ঘটনা বন্ধ হয়ে যায় হিরণ মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর। পাশাপাশি অবস্থান করে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। হামলা-মামলার ঘটনা তখন শূন্যে দাঁড়িয়েছে হিরনের কল্যাণে। আওয়ামী লীগ সম্পর্কে ক্ষোভ-বিক্ষোভ থাকলেও হিরণ আজো নগরবাসীর প্রাণের মানুষ হয়ে বেঁচে আছেন হৃদয়ে সবার। ২০১৪ সালের ২২ মার্চ, শনিবার রাত ১০টায় হিরণের বরিশাল ক্লাবের সামনে ব্রেন স্ট্রোক হয়। এর সাথে সাথেই তিনি পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং চেতনা হারিয়ে ফেলেন। তৎক্ষনাৎ তাঁকে শেরে বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে নিয়ে যান। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর অবস্থার অবনতি হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় এ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই রোববার তাঁর মস্তিষ্কে ‘ডিকমপ্রেসিভ ক্রানেকটমি’ নামে একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপরে মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই অনুযায়ী সোমবার রাতে হিরণকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের গ্লেনঈগলস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে মঙ্গলবার সকালে তার আরো একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা হিরণের বাঁচার সব আশা ছেড়ে দেয় এবং বাংলাদেশে এনে লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলার পরামর্শ দেয়। পরবর্তী বৃহস্পতিবার রাতে দেশে ফিরিয়ে এনে পুনরায় অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যবস্থায় রাখা হয়। অবশেষে ৯ই এপ্রিল, ২০১৪; বুধবার সকাল সাতটায় তিনি পরলোকগমন করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো সংবাদ...
© All rights reserved © ২০২৩ স্মার্ট বরিশাল
EngineerBD-Jowfhowo