২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ দুপুর ২:৩৯

প্রেমের মরা জলে ডুবেছে বরিশালে ! সাদের লাশ উদ্ধার

বার্তা ডেক্স:
  • আপডেট সময়ঃ সোমবার, এপ্রিল ১০, ২০২৩,
  • 79 পঠিত

মা বাবাকে সালাম দিয়ে কপালে চুমু দিয়ে চাকরিতে যোগদানের কথা থাকলেও যাত্রা পথে মাঝনদীতে গভীর রাতে প্রেমিকার সাথে মোবাইলে ঝগড়া অতঃপর লঞ্চ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও থমকে দাঁড়ালো কিন্তু প্রেমিকার ঝগড়ার কথার ভার সামলাতে না পেরে নদীতে ঝাঁপ দেয় শেখ রেফাত মাহমুদ স্বাদ!

বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ সাদের লাশ উদ্ধার হয়েছে। সোমবার সকালে মেঘনা নদীর মুলাদী মোহনায় জেলেদের জালে উদ্ধার হয় বলে পুলিশ ও স্বজনরা জানিয়েছে। শুক্রবার রাতে বরিশাল-ঢাকা রুটের এমভি শুভরাজ-৯ লঞ্চে ঢাকা যাওয়ার পথে ঝাপ দিয়ে নিখোঁজ হয় শেখ রেফাত মাহমুদ সাদ (২৭)। সে নগরীর কালিবাড়ি রোডের ফ্লোরা ভিউর বাসিন্দা ঠিকাদার শেখ আসলাম মাহমুদের ছেলে। লঞ্চের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে দেখা গেছে, রাত দেড়টার দিকে লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাপিয়ে পড়ে সাদ। কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমানুল্লাহ আল বারী জানান, সকালে মেঘনা নদীতে লাশ পেয়েছে। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সাদের মামা সাগরউদ্দিন মন্টি জানান, জেলেদের জালে লাশ উঠে। পকেটে পাওয়া মোবাইল ফোন থেকে সিম বের করে জেলেরা তার বাবার ফোনে কল করে বিষয়টি জানিয়েছেন। সকাল আটটার দিকে তারা গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছেন। মন্টি আরো জানান, নদীতে ঝাঁপ দেয়ার আধাঘন্টা পূর্বে প্রেমিকের সাথে ঝগড়া হয়েছে। চাকুরি নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলো সে। তাই অভিমানে লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে বলে ধারনা করছেন যুবকের মামা মন্টি।
মন্টি আরো জানান, এ ঘটনার পর রোববার সাদের প্রেমিকা বাসায় এসেছিলো। তাদের সাথে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। নদীতে ঝাঁপ দেয়ার পূর্বে সর্বশেষ তার সাথে কথা হয়। বিয়ে নিয়ে তার সাথে বাগবিতন্ডা হয়। এ সময় সে (প্রেমিকা) রাগান্বিত হয়ে কথা বলে।
তবে তার বিরুদ্ধে তারা কোন আইনী লড়াইতে যাবেন না বলে জানিয়ে সাদের বাবা শেখ আসলাম মাহমুদ বলেন, বিএম কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে মাষ্টার্স সম্পন করেছে। আবুল খায়ের গ্রুপ অব কোম্পানীতে তার নিয়োগ হয়েছে। গত শনিবার সেখানে যোগদানের কথা ছিলো। চাকুরিতে যোগদান করতে শুক্রবার বরিশাল থেকে শুভরাজ-৯ লঞ্চে ঢাকা রওনা হয়।
শেখ আসলাম মাহমুদ বলেন, আমার ছেলে বলে বলছি না সাদ খুব ভাল ছেলে ছিলো। ন¤্র, ভদ্র ও ধার্মিক ছিলো। সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো ও রোযা রাখতো। তার মধ্যে কখনো অস্বাভাবিক দেখেনি। যাওয়ার সময় আমার ও তার মায়ের কাছ থেকে দোয়া নিয়েছে। তার হাতে ও মায়ের কপালে চুমু দিয়েছে। যাওয়ার সময় আরো বলেছে, ঢাকা গিয়ে যদি টাকার প্রয়োজন হলে পাঠিয়ে দিও। আমিও তাকে বলেছি, তুমি জানালে পাঠিয়ে দেব। কেন, কি হলো আমি বুঝতে পারছি না।
আমাদের কাছে আসা লঞ্চের সিসি টিভি ফুটেজ থেকে দেখা গেছে, শুক্রবার দিনগত রাত ১টা ১৬ মিনিটের দিকে লঞ্চের দ্বিতীয় তলার কেবিনে পাশে রেলিং ধরে নদীর দিকে থাকিয়ে রয়েছে। লঞ্চ থেকে নিচ তাকিয়ে দেখেছে। রাত ১ টা ৩৩ মিনিটে রেলিংয়ের উপর উঠে ঝাপ দিতে গিয়ে থেমে যায়। এক পা রেলিংয়ের বাইরে দিয়ে কিছু সময় দাড়িয়ে ছিলো। পাশে আরো দুই জন যাত্রী থাকলেও তারা বিষয়টি কোন কিছু খেয়াল করেনি। মিনিট খানেক সময় দাড়িয়ে থাকার পর নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে সাদ।
এদিকে আজ জহুর নামাজ শেষে নগরীর সদর রোডস্থ বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে রেফাতের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে অংশ গ্রহণ করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাড. আলী হায়দার বাবুল, হাবিবুর রহমান টিপু, সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ, দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক-সম্পাদক নুরুল আলম ফরিদ, দৈনিক আজকের পরিবর্তন পত্রিকার প্রকাশক-সম্পাদক কাজী মিরাজ, উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক দেওয়ান মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ প্রমূখ। জানাজা শেষে মুসলিম গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো সংবাদ...
© All rights reserved © ২০২৩ স্মার্ট বরিশাল
EngineerBD-Jowfhowo