২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ সন্ধ্যা ৭:৩৫

অচেনা ব্যক্তিত্ব খোকন সেরনিয়াবাতের উত্থান যেভাবে

এম.এস.আই লিমন :-
  • আপডেট সময়ঃ রবিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৩,
  • 247 পঠিত

 

এম.এস.আই লিমনঃ

বরিশালের রাজনীতির নয়া সূচনার কেন্দ্রে থাকা আসন্ন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত) এখন টক অফ দ্যা টাউনে পরিনত হয়েছে।

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়েছেন আসন্ন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আবুল খায়ের আবদুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত)।তিনি শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের পুত্র হলেও বরিশালে এতদিন ছিলেন অচেনা এক ব্যক্তিত্ব।নিজ ঘরেও পরবাসী হওয়া তো দূরে থাক পিতৃভূমীতে স্থান টুকু না পাওয়া বঞ্চিত ব্যক্তির নাম ই আজ বরিশাল গোটা শহরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

তিনি বরিশালে বসবাসও করতেন না,পরিবার পরিজন নিয়ে থাকতেন খুলনায়।গত কয়েক বছর আগে বিকল্প রাজনীতি সৃষ্টি করতে বরিশালে আগমন ঘটে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের ছোট ছেলের ।
বাংলাদেশ সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ এর সহ সভাপতি কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের সাথে সখ্যতা গড়ে পুরস্কার সরুপ পেয়েছেন সোনার হরিণ। বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি’র বড় ছেলে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর কাছ থেকে একাধিক বার বন্চনার শিকার হয়ে বরিশালের স্থানীয় রাজনীতিতে পদার্পন এবং রাজনীতিতে নেমেই ছক্কা হাকানোর মত নৌকার মনোনায়ন ও পেয়ে বসেছেন আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত । বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মনোনয়ন বোর্ডের একজন ব্যতীত সকলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর আস্থালাভ করতে সক্ষম হওয়া দলীয় নমিনেশন প্রাপ্ত এ নেতাকে নিয়ে তাই যেন কৌতূহলের শেষ নেই তৃনমুল আওয়ামী কর্মীদের।

কে এই আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ ওরফে খোকন আবদুল্লাহ !  

আবুল খায়ের আবদুল্লাহ ওরফে খোকন আবদুল্লাহ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের’র ভাগ্নে ও বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আপন ফুপাতো ভাই।সাবেক কৃষি মন্ত্রী শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের পুত্র আবুল খায়ের আবদুল্লাহও ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট কালো রাতে নির্মমতার শিকার হয়েছেন। হাতে পায়ে একাধিক গুলিতে আহত হয়েছিল তিনি।এখনও সেই গুলির স্প্লিন্টার রয়ে গেছে তার। বাবার মৃত্যর পর বড় ছেলে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বরিশালে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন।নানা চড়াই উতরাইের পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ সংসদের চীফ হুইপ হন।এরপর ২য় দফায় আওয়ামী লীগে ২০০৮ সালে সরকার গঠন করে এখন পর্যন্ত ক্ষমতায় আছে।কিন্তু প্রধানমন্ত্রী পরিবারের নিকটাত্মীয় হলেও আবুল খায়ের আবদুল্লাহ ওরফে খোকন সেরনিয়াবাত অনেকটা নিরবে নিভৃতে থেকেছেন অজানা কারণে।জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভাগিনা ও শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত এর পুত্র হওয়া সত্বেও পিতৃভূমিতে বঞ্চিত হয়ে বিভাগীয় শহর খুলনায় সমুদ্রবন্দর কেন্দ্রিক বিদেশগামী পণ্যবাহী জাহাজ নিয়ে তার ব্যবসা পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তিনি।নিজের পিতৃভূমিতেই স্থান না পাওয়ায় জীবিকার তাগিদে বিদেশগামী পণ্যবাহী জাহাজের ব্যবসায় সম্পৃক্ত হন ১৯৮০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে খোকন সেরনিয়াবাত। নিরবে নিভৃতে কাটিয়ে দেয়া পিতৃভূমিতে স্থান না পাওয়া বঞ্চিত খোকন সেরনিয়াবাত
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু’র ভাগিনা কিংবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র আপনজন হওয়া সত্ত্বেও সে পরিচয়ে কোথাও কোনো ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা সেসব পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে ফায়দা লুটে নেয়ার কোন তথ্য অনুসন্ধানেও পাওয়া যায় নি। অর্ধশতর বেশী সময়ের মধ্যে তার পরিচয় ছিলো প্রায় দেশের অধিকাংশ জনগণের কাছেই অজানা। আওয়ামী লীগের ক্ষমতামলেও তার রাজনৈতিক অবস্থানও ছিলো না তার।
এমনকি ক্ষমতাসীন দলের অধিকাংশরা চিনতেন না এই খোকন সেরনিয়াবাতকে।বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এর বর্তমান পরিষদ গঠনের পূর্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে ২০১৮ সালে নিজের পরিচয় উপস্থাপন করে বরিশালের মানুষের মাঝে মিশে গেলেও অজানা কারণে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে আবেদন করে নি তিনি। তবে স্থানীয় মিডিয়া সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত এর পুত্র হিসেবে কিছুটা পরিচিতি পায় তিনি।এরপরই বয়সের প্রায় শেষের দিকে এসে পিতৃভূমিতে মামা এবং পিতার মত নিজের নামটিও কর্মের মাধ্যমে অমর করে রাখতে গেলো কয়েক মাস আগে বরিশাল নগরীর হযরত কালুশাহ সড়ক এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় তার পরিবার নিয়ে বসবাস করতে শুরু করে খোকন সেরনিয়াবাত। সামাজিক বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ গ্রহন করা থেকে শুরু করে স্থানীয় সংসদ সদস্য’র সাথে সক্ষতা গড়ে জনসেবার চূড়ান্তের দ্বাড় প্রান্তে এসে সুকৌশলে বরিশালের রাজনীতিতে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। এরপর সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পর ই দলীয় মনোনয়ন পেতে ফরম সংগ্রহ করে আবেদন করে তিনি। এরপর বিশেষ বিবেচনায় ও পরিবারের মাঝে থেকেও আলাদা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসা শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত এর পুত্র খোকন সেরনিয়াবাত কেই দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। পরিচিত পরিচয়ের আড়ালে অপরিচিত ব্যক্তি রাতারাতি আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়ে পিতৃভূমিতে তার পরিচয়ের কারনেই বহুল আলোচিত হয়েছেন তিনি ।

আর এখন এই আলোচিত আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর ভাড়ায় থাকা বাসভবনে দিনরাত নেতাকর্মী সহ সমর্থকগোষ্ঠী তৈরী হয়ে লোকে লোকারণ্য অবস্থা।

যে কারনে বরিশালের রাজনীতিতে পদার্পন: আবুল খায়ের আবদুল্লাহ ওরফে খোকন সেরনিয়াবাতের রাজনীতির প্রতি কোন ঝোক ছিল না বলে তার একনিষ্ট অনুসারীরা নিশ্চিত করলেও ভাই এবং ভাতিজার(সাদিক আবদুল্লাহ) কিছু কর্মকান্ডে অনেকটা ক্ষিপ্ত হয়েই বরিশালে রাজনীতি করার ইচ্ছে হয় খোকন সেরনিয়াবাতের।বিশেষ করে বরিশাল নগরীর কালিবাড়ি রোডস্থ সেরনিয়াবাত ভবন নিজের পৈত্রিক বাড়িতে আপন বড় ভাই বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র বড় ছেলে তার ভাতিজা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর কারনে বংশ পরিচয় থেকেও পরিচয় দিতে না পারার মত ঘটনায় মারাত্বক কস্টের মাঝেও নিজের পরিচয় উপস্থাপন করার জেদ দেখা দেয় তার মাঝে ।নিজের বাড়ি থাকা স্বওেও ভাড়া বাসায় থাকার এ বিষয়টি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা ‘র কান পর্যন্ত গড়ায়।কিন্তু এ বিষয়ে নিজের আপন ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ কোন পদক্ষেপ নেয় নি তা স্পষ্ট ভাবেই বোঝা যায় প্রায় ৬৫ বছরেও তার নামটি পর্যন্ত উপস্থাপন না হওয়ায় ।অন্যদিকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি’র বলয়ে থাকা সাবেক প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরনপন্থী কিছু নেতা কর্মীরা খোকন আবদুল্লাহকে বরিশালের রাজনীতিতে পদার্পনে উৎসাহিত করেন।মূলত নিজ পরিবার বলতে আপন বড় ভাই ও তার ছেলেদের মূখে নিজের নামটা পর্যন্ত উচ্চারণ না হওয়ায় এবং তার প্রাপ্য পৈতৃক ভিটায় স্থান না দেয়ার মূলে থাকা ভাতিজার সাথে দ্বন্দ্ব থেকেই বরিশালের রাজনীতিতে প্রবেশ খোকন আবদুল্লাহর।পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দর অধিকাংশরাই সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর নানান বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারনে তার সম্পর্কে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হয়। যে কারনে তাদের সাথে বর্তমান মেয়রের সম্পর্কের অবনতি ঘটলে।যার প্রভাব গিয়ে পড়ে এবারের মনোনায়ন বোর্ডের আলোচনায় ।পাশাপাশি খোকন আবদুল্লাহর সাথে ঘটা অন্যায় কাজগুলোর পাশাপাশি সাদিক আবদুল্লাহর কিছু কর্মকান্ডে প্রধানমন্ত্রী নিজে ক্ষুব্ধ ছিলেন বলেও জানায় একাধিক সূত্র ।এর সাথে ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট গুলিবিদ্ধ হবার পর প্রধানমন্ত্রীর কাছে এখন পর্যন্ত কিছু না চাওয়ায় নিজের বংশ পরিচয় থেকেও বঞ্চিত হওয়ায় পুরষ্কার সরুপ খোকন সেরনিয়াবাত কে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে বলে মনে করছে জাতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মনোনয়ন পাওয়ার পরবর্তি অবস্থা:গত ১৫ এপ্রিল খোকন সেরনিয়াবাত বরিশাল থেকে সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে বর্তমানে নগরীর কালুশাহ সড়কস্থ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করছেন।তদের মধ্যে কট্টর সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারীরা কেউ না থাকলেও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী’র অনুসারী প্রায় সকল নেতাকর্মী ও সাবেক প্রয়াত মেয়র হিরনের অনুসারীরা একযোগে আসন্ন বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র পদের জন্য একট্টা হয়ে প্রচার প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। একই সাথে বিসিসির বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র অন্যায় অত্যাচার থেকে নিজেদের আলাদা করা আওয়ামী পন্থী ১০ জন কাউন্সিলর পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী’র নির্দেশনায় দলীয় মনোনীত মেয়র প্রার্থীর হয়েই প্রচারপ্রচারনার কাজে শুরু থেকেই আছেন।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এর আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদের প্রার্থী আবুল খায়ের খোকন সেরনিয়াবাত বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা আমাদের প্রিয় জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র পরিচয়ে তিনি কোন ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করেছি এমন বিষয় কেউ বলতে পারবে না৷ জীবনের বেশির ভাগ সময় হক হালাল ভাবে পণ্যবাহী জাহাজের ব্যবসা করে পরিবার পরিজন নিয়ে থেকেছি।বর্তমানে আমার জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমার মামা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আমার পিতা মরহুম আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের মত মানুষের জন্য কাজ করে তাদের সেবা করে কাটাতে চাই।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দলীয় মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আমার শেষ বয়সের ইচ্ছে পুরনের সুযোগ করে দেওয়ায় আমি তার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। আমার বিশ্বাস বরিশালের মানুষ আমাকে তাদের সেবা করার সুযোগ করে দিবে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে উন্নয়নের স্বার্থে মেয়র পদে ভোট প্রদানের মাধ্যমে। আমি পরিকল্পিত টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে বরিশাল কে একটি আধুনিক সমৃদ্ধশালী স্মার্ট মহানগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যেতে চাই।এছাড়া আমার আর চাওয়াপাওয়ার কিছু নেই, এখন মানুষের সেবা করে কাটাতে চাই বাকিটা জীবন নিজের পিতৃভূমিতে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো সংবাদ...
© All rights reserved © ২০২৩ স্মার্ট বরিশাল
EngineerBD-Jowfhowo