১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ রাত ১১:৪২

জীবন জীবনের মতো হোক। জীবন আজকের হোক। কাল ? অনিশ্চিত চিরকাল

মনদীপ ঘরাই
  • আপডেট সময়ঃ শুক্রবার, মে ৫, ২০২৩,
  • 46 পঠিত

গতকাল রাত। হঠাৎ মেসেঞ্জারে একটা মেসেজ এলো। কলেজের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছ থেকে। ওর সাথে অনেক বছর কোনো যোগাযোগ হয় না। ও দেশের বাইরে আছে,এটুকু জানি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ওর তেমন একটা বিচরণ নেই বলে যোগাযোগে এমন ভাটা। মেসেঞ্জারে দু এক কথা লেখার পর দুজনেই বুঝলাম, কথা বলতে হবে। না হলে ঠিক জমছে না।
আজ খুব ভোরে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিলাম। স্মৃতির ডানায় ভর করে আমরা মুহূর্তেই ফিরে গেলাম কলেজ জীবনে। মনে হচ্ছিলো এখনো সেই দিনগুলোতেই আছি।
আমি বারবার জিজ্ঞেস করছিলাম, তুই দেশে আসবি কবে?
ও এড়িয়ে যাচ্ছিলো কথাটা।
আমাদের আলাপ চলতে লাগলো। হোস্টেলের দুর্বার দিনগুলি, ক্লাস পালানো, আড্ডা আরো কত কী!
কথার মাঝখানে আবারও জিজ্ঞেস করলাম,
“তুই দেশে আসবি কবে”
এবারের শোনা কথাটা বিশ্বাস হতে চাইলো না। ওর ক্যান্সার। থার্ড স্টেজ। কয়েকমাস আগে যেদিন দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হবে, তার আগের রাতে ওর ডাক্তার ফোন করে খবরটা দেয়।
মনটা গুমোট কষ্টে ছেয়ে আছে। জীবন আমাদের কত কত পরিস্থিতির সামনে এনে দাঁড় করায়!
অথচ, যাদের জীবন এই আজ সকালেও সহজ আছে; তাদের জীবন নিয়ে অভিযোগের হয়তো শেষ নেই। ভালো থেকেও আরও ভালো থাকতে চায় সবাই।
জীবনটা অনেকের থেমে গেছে আজ। অনেকে লড়ছে দুরারোগ্য ব্যাধির সাথে। আর বাকিরা? সামান্য লড়াইয়ে জীবনের প্রতি বিরক্ত হচ্ছি। সামান্য সাফল্য হাত ফসকে গেলে, ভালোবাসার মানুষ চলে গেলে কিংবা অন্যের চেয়ে খারাপ থাকলে আমাদের জীবন অসহ্য মনে হয়।
এই তো দু’দিন আগে। ইনবক্সে আমার সাথে সংযুক্ত একজন নিজের কষ্টের কথা বললো। যে মেয়েটাকে সে পছন্দ করতো, কিছুদিন আগে তার বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলেটা খুব কষ্টে আছে। আমি কথা দিয়েছিলাম ওকে দু’চার কথা হলেও লিখবো। আজকের এই লেখাটা অনেক কিছুকে মিলিয়ে দিলো। আমি সেই ছেলেটার উদ্দেশ্যে শুধু বলবো, তোমার প্রিয়জন ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট নেহায়েত কম নয়, বুঝি। তবে, জীবন যখন তোমার প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াবে, সে লড়াইটা অনেক অনেক বেশি কঠিন।
মন খুলে বাঁচো। নিজের জন্য বাঁচো। পরিবারের মানুষগুলোর জন্য বাঁচো। আমার বন্ধুর জন্য আজ মনে যে ক্ষরণ হচ্ছে, তা থেকে বুঝে নিও…জীবনটা অনেক অনেক বেশি দামী। কেনো দামী? কার জন্য দামী?
তোমার জীবনটা তুমি তৈরি করতে পারোনি। তোমার জীবনটা কখন ফুরিয়ে যাবে, তাও তুমি জানো না। শুধৃ একটা কথাই নিশ্চিত জানো, এ জীবন আর ফিরবে না।
যে জীবন নদীর মতো বয়ে যাচ্ছে, তার স্রোতকে রুখতে আমরা পারি না সত্যি, তবে স্রোতের বুকে আশার নৌকা তো ভাসাতে পারি!
উদাহরণ চাই, একটু আগে বাবার ফোন পেলাম। আমার সত্তোরোর্ধ্ব বাবা তার কলেজের এক বড় ভাইয়ের সাথে দু ঘন্টা জার্নি করে, তার বাসায় গিয়ে দেখা করে জীবন উদযাপন করছেন।বহু
বছর পরে দেখা হওয়ায় দুজনের উচ্ছ্বাস ফোনের এপারে ষ্পষ্ট টের পাচ্ছিলাম। এই তো জীবন!
আমার বন্ধু সুস্হ্য হয়ে ফিরুক। আর ছেলেটা তার সঠিক প্রিয়জন খুঁজে নিক সামনের জীবনে। বাবার শক্তি সন্তানের মাঝে ছড়িয়ে যাক।আজকের দিনে।

জীবন জীবনের মতো হোক।
জীবন আজকের হোক।
কাল? অনিশ্চিত চিরকাল।
লেখা: মনদীপ ঘরাই

সংবাদটি শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো সংবাদ...
© All rights reserved © ২০২৩ স্মার্ট বরিশাল
EngineerBD-Jowfhowo