১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ সকাল ৯:৪৯

রোগীদের সেবায় কাজে আসছে না নৌ-অ্যাম্বুলেন্স

বার্তা ডেক্স:
  • আপডেট সময়ঃ সোমবার, মে ৮, ২০২৩,
  • 39 পঠিত

দুর্গম ও চরাঞ্চলের মানুষকে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে ২০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে মোট ২০টি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কমিউনিটি বেইস্ড হেলথ কেয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে এগুলো দেয়া হয়। কিন্তু নৌপথে রোগী পরিবহনের এসব যানের সেবা সেভাবে কেউ পায়নি। এসব নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের বেশির ভাগই পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে। নয়তো চলাচলের অনুপযোগী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উদ্বোধনের এক বছরের মধ্যে তলা ফুটো হয়ে অচল হয়ে পড়ে আছে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে দেওয়া নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি। এটি এখন উপজেলার আন্ধারমানিক নদের পানিতে তলিয়ে আছে। তবে ভাটার সময় কিছুটা জেগে ওঠে। ব্যবহার না হওয়ায় খুলে রাখা হয়েছে এর ইঞ্জিন।

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিন্ময় হালদার বলেন, ‘শুরু থেকেই এ অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি। কারণ এখানে যোগাযোগ অবস্থা অনেক ভালো। এ কারণে নৌ অ্যাম্বুলেন্স ফেরত নেওয়ার জন্য আমরা স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কয়েকবার চিঠি লিখেছি।’ কিন্তু আর ফেরত নেয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব অ্যাম্বুলেন্সের জন্য স্থায়ীভাবে চালক নিয়োগ করা হয়নি। অন্য নৌযানের তুলনায় নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের জ্বালানি খরচ কয়েকগুণ বেশি। গতিও অনেক কম। এসব কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষই এ নৌযান পরিচালনায় আগ্রহী নয়। সাধারণ মানুষও তাই কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছে না। কোথাও কোথাও অবশ্য স্থানীয়ভাবে চালকের ব্যবস্থা করে চালানো হয়েছে। পটুয়াখালীর গলাচিপা ও দশমিনার চরাঞ্চলের কয়েকজন বলেন, খরচ বেশি হওয়ায় নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারে তাঁরা আগ্রহ দেখান না।

পটুয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. এস এম কবির হাসান বলেন, নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের মূল সমস্যা হচ্ছে গতি কম। একটি সাধারণ স্পিডবোটে যে দূরত্ব যেতে ১ লিটার জ্বালানি লাগে, সেখানে এটিতে ব্যয় হতো প্রায় ৫ লিটার ডিজেল। এতে খরচ অনেক বেশি। শুরুর দিকে কিছু মানুষ এটি ব্যবহার করলেও পরে সাধারণ মানুষ এর সেবা নিতে আগ্রহ দেখায়নি। এ কারণে তাঁরা কম খরচের বেসরকারি নৌযান ব্যবহার করেন।

এদিকে করোনার সাধারণ ছুটিসহ বিধিনিষেধের সময় ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা সেখানকার নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করেন। তবে ধীর গতির কারণে রোগী ও তাঁর স্বজনেরা এই নৌযান ব্যবহারে আগ্রহ দেখাননি। জেলার অন্য তিন উপজেলা চরফ্যাশন, দৌলতখান ও তজুমদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে বরাদ্দ দেওয়া অ্যাম্বুলেন্সগুলোও রোগী পরিবহনে কাজে লাগেনি বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শোভন বসাক বলেন, দুই বছর ধরে নৌ-অ্যাম্বুলেন্সেটি ব্যবহার হচ্ছে না। এ বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। এখন দেখাশুনার জন্য একজন চালক অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয় মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে। উদ্দেশ্য ছিল উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের রোগীদের পরিবহনে এটি ব্যবহৃত হবে। তবে জানা যায়, ব্যবহার না হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সটির ইঞ্জিন অকেজো হয়ে গেছে। এর অবকাঠামোগত অবস্থাও জরাজীর্ণ। বর্তমানে এটি মেহেন্দীগঞ্জের মাসকাটা নদীর স্টিমারঘাটসংলগ্ন চরে পড়ে আছে।

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা যায়, সেখানের নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি আগে থেকেই ত্রুটিপূর্ণ ছিল।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মুহাম্মদ আমরুল্লাহ বলেন, চালক না থাকা ও ব্যয়বহুল হওয়ায় নৌ এম্বুলেন্সটি চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন ...

এই বিভাগের আরো সংবাদ...
© All rights reserved © ২০২৩ স্মার্ট বরিশাল
EngineerBD-Jowfhowo